• দলীয় পতাকা কারা তুলবে, তা নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দুবরাজপুরে
    এই সময় | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে পতাকা উত্তোলন নিয়ে ঝামেলা দলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। বীরভূমের হেতমপুরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল বৃহস্পতিবার। পঞ্চায়েত সদস্যকে কার্যালয়ের ভিতরে আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে দলেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে। দুবরাজপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    অভিযোগ, অনেক দিন ধরেই হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপপ্রধান শেখ সবুর আলির নেতৃত্বে হেতমপুর তৃণমূল কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন না পঞ্চায়েত সদস্য শেখ হারেসতুল্লা ওরফে উজ্জ্বল ও তাঁর লোকেরা। অভিযোগ, উজ্জ্বল পরে লোকজন নিয়ে এসে সেই পতাকা নামিয়ে নতুন করে পতাকা তোলেন। তাতেই ঝামেলা, মারামারি শুরু হয়। অভিযোগ, এমন অবস্থা হয়, প্রতিষ্ঠা দিবসে দলীয় পতাকা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

    দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ জসিমুদ্দিন বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রতিবারই আমরা পতাকা উত্তোলন করি। আজও করেছি পার্টি অফিস চত্বরে। এর পরে খবর পাই, গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্য উজ্জ্বল পতাকা নামিয়ে দিয়েছে। জানতে চাই কেন পতাকা নামানো হলো? তার কোনও উত্তর মেলেনি। এ দিকে তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে বলে ওকে কার্যালয়ে আটকে রাখি।’

    হেতমপুর গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ সবুর আলির দাবি, পতাকা নামিয়ে দেওয়ায় প্রতিবাদ করা হয়েছে। ওরা আসলে নিজেদের সর্বশক্তিমান মনে করছে।

    যদিও যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, সেই উজ্জ্বলের বক্তব্য, ‘পঞ্চায়েতে গত চার মাস ধরে দু’টো গোষ্ঠীর ঝামেলা চলছে। প্রধান ও অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্য নিয়ে কাজ হলেও দু-একজন সদস্য এসে ঝামেলা করে। আজও একজন সদস্য লোক নিয়ে এসে ঝামেলা করেছে। বুধবারও কথা হলো, সব সদস্য মিলে পতাকা তুলব। আজ এসে দেখি পতাকা উত্তোলন করে দিয়েছে। তবে পতাকা আমি খুলিনি। এসে দেখি পতাকা নেমে গিয়েছিল। তাই বড় পতাকা এনে তা লাগাচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে ঝামেলা করে আমাকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ আসে। উপপ্রধান এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে সবেতে। অথচ এতদিন তাঁকে দেখা যায়নি।’

    দুবরাজপুরের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আসলে ক্ষমতা দখলের লড়াই এ সব। সর্বত্রই এক অবস্থা।

  • Link to this news (এই সময়)