• আরজি কর আন্দোলনের মুখ, জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের সভাপতির পদ ছাড়লেন অনিকেত
    এই সময় | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট এবং ট্রাস্টের সভাপতির পদ ছাড়লেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। মূলত আরজি করের ঘটনার পরেই বিচার চেয়ে এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এক ছাতার তলায় এসেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। সকলকে একত্রিত করার অন্যতম কারিগর ছিলেন অনিকেত। তৈরি করা হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’। সেই ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন অনিকেত মাহাতো।

    সূত্রের খবর, সংগঠনের পরিবেশ, পরিচালনা ও কর্মপদ্ধতি পছন্দ করছেন না তিনি। সেই অভিযোগ তুলেই সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে সরে এসেছেন। অনিকেত এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের যে লিগ্যাল ট্রাস্ট ছিল, তার সঙ্গে নতুন যে এগজিকিউটিভ কমিটি হবে, তার সঙ্গে একটা সম্পর্ক স্থাপন করা হবে বলে আমি মনে করেছিলাম। যদি এই সম্পর্ক তৈরি না করা হয়, তা হলে সেটা বেআইনি কাজ।’ সেটা না হয়ে নিজের মতো কমিটি তৈরি হওয়ার কারণেই তিনি পদত্যাগ করছেন বলে জানান।

    আরজি কর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী? অনিকেত বলেন, ‘অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলন করতেই আমি এসেছিলাম। এই ন্যায় বিচারের আন্দোলন ছেড়ে আমি চলে যেতে পারি না। আমার সহকর্মী যে যন্ত্রণা পেয়েছেন, সেটা আমি ভুলতে পারি না।… আমি আমার মতো করে এই লড়াই চালিয়ে যাব।’

    আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরে কর্মবিরতি শুরু করছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। ধীরে ধীরে মেডিক্যাল কলেজে চত্বর থেকে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে যায় এই আন্দোলন। ‘We Want Justice’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাড়তে থাকে আন্দোলনের ঝাঁঝ। সেই আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ হয়ে উঠেছিলেন অনিকেত। বিচারের দাবিতে অনশনও শুরু করেছিলেন তিনি। পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তবে লড়াই থেকে আজও সরে আসেননি।

    সম্প্রতি আরজি কর মেডিক্যাল হাসপাতালে তাঁর পোস্টিং নিয়েও টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। আরজি কর থেকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে অনিকেতকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে আদালতে যান অনিকেত। হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর মেনে তাঁকে ট্রান্সফার করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টেও হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

  • Link to this news (এই সময়)