• পয়লা জানুয়ারির আনন্দ বদলে গেল আর্তনাদে, বর্ধমানে গাড়িতে ঢুকে গেল গ্যাস ট্যাংকার! মুহূর্তে শেষ একই পরিবারের ৩...
    ২৪ ঘন্টা | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • অরূপ লাহা: নতুন বছরের প্রথম দিনে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গাড়ির সঙ্গে গ্যাস ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষে প্রাণ গেল এক পরিবারের ৩ জনে। মৃতেরা সম্পর্কে বাবা, মা ও ছেলে। চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানে বামচাঁদাইপুরে।

    পুলিস সূত্রে খবর, মৃতেরা হলেন শেখ মহম্মদ মুর্শেদ, তাঁর স্ত্রী  রেজিনা খাতুন ও ছেলে শেখ শাহনাওয়াজ। কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকতেন  শাহনাওয়াজ। সেখানকার একটি বেসরকারি সংস্থার চাকরি করতেন। এদিন দুর্গাপুর থেকে গাড়ি করে ছেলেকে দমদম এয়ারপোর্টে ছাড়তে যাচ্ছিলেন  মুর্শেদ ও রেজিনা। 

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে বেশ দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল গাড়িটি। বামচাঁদাইপুরে এসে আর নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। জাতীয় সড়কে একটি গ্যাস ট্যাংকারে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারের পিছনে আটকে বেশ খানিক এগিয়েও যায় গাড়িটি।  শেষে ট্যাংকারটিকে থামান  স্থানীয় বাসিন্দারা। গাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বাবা, মা ও ছেলেকে। গুরুতর জখম গাড়ির চালক।

    এদিকে বর্ষবরণে সকালে দুর্ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালিতেও। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংগ্রামপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বকখালির উদ্দেশে রওনা দেন একদল পর্যটক। কিন্তু মাঝপথে হঠাত্‍-ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই গাড়িটি  উল্টে যায় রাস্তার পাশে নয়ানজুলিতে। আহত হন ২৬ জন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে  যান স্থানীয় বাসিন্দারাই। এরপর দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস।

    এর আগে, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর  ১৯ জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল পূণ্যার্থী বোঝাই বাস। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে পবিত্র ভূমি বুদ্ধগয়া দর্শনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন পূণ্যার্থীরা। জামালপুর থানার মুসুণ্ড এলাকায় গভীর রাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটিকে ধাক্কা মারে একটি কন্টেনার। আহত হন কন্টেনারের চালক-সহ ২৩ জন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস।

    একজন পুণ্যার্থী জানিয়েছিলেন,বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে গত ২৯ অক্টোবর বুদ্ধগয়া দর্শনের উদ্দেশ্যে মোট ১১৭ জন পুণ্যার্থী দুটি ট্যুরিস্ট বাসে রওনা দেন। বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের পর তাঁরা ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বুদ্ধগয়ার পথে ছিলেন। মুসুণ্ডা এলাকায় পৌঁছনোর সময় তাঁদের একটি বাসের পিছনে থাকা কন্টেনারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, কন্টেনারের চালক ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জামালপুর থানার পুলিস।

    দুর্ঘটনাগ্রস্থ এক পুন্যার্থী বলেন, গত ২৯ তারিখে বুদ্ধগয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলাম। বেনাপোল হয়ে বুদ্ধগয়ার দিকে যাচ্ছিলাম। পথে রাত আড়াইটের সময় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে। প্রায় ১৭ জন কমবেচশি আহত হয়েছেন। আমরা মোট ১১৭ জন ছিলাম।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)