অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গে এখন চলছে SIR (SIR in Bengal) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন পর্ব। ইতিমধ্যেই এনুমারেশন প্রক্রিয়া (Enumeration form) শেষ হয়েছে। তারপর বেরিয়ে গিয়েছে খসড়া ভোটার লিস্ট (Voter List)। এরপরই শুরু হয়েছে শুনানি বা হিয়ারিং পর্ব (Sir hearing)। এই পর্বে ভোটারদের ডাকতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তাঁদের কাছে ডকুমেন্ট দেখতে চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি করা হচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। তারপরই ভোটার তালিকায় নাম রাখা সম্ভব হবে বলে জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নইলে নাম ডিলিট হয়ে যেতে পারে। কমিশনের নির্দেশ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নিজেদের বা মা-বাবার নাম নেই, তাঁদের নথি দিয়ে নাম তুলতে হবে। এক্ষেত্রে কোন কোন নথি দেওয়া যাবে তার তালিকাও দিয়েছে কমিশন।
কতজন ভোটারকে ডাকা হচ্ছে?
নির্বাচন কমিশন প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটারকে ডেকেছে প্রথম পর্যায়ে। এই সব ভোটাররা হলেন আনম্যাপড। অর্থাৎ তাঁদের নাম ২০০২-এর ভোটার লিস্টে নেই। এমনকী তাঁদের বাবা-মা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার নামও ভোটার লিস্টে অনুপস্থিত। আর সেই কারণেই তাঁদের প্রথমে ডাকছে নির্বাচন কমিশন। সঙ্গে লাগছে অনেক তথ্য।
কী কী নথি লাগছে?
১. ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসির নথি। স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া সার্টিফিকেট।
২. যদি কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে চাকরির নথি সঙ্গে রাখতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মী হয়ে থাকলে পেনশনের নথিও গ্রহণযোগ্য।
৩. জন্মের শংসাপত্র।
৪. পাসপোর্ট থাকলে তা নিয়ে যেতে পারেন।
৫. মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক-সহ শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে যেতে পারেন।
৬. রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কোনও সংস্থার তরফে যদি বাড়ি পেয়ে থাকেন, তাহলে বাসস্থানের সার্টিফিকেটও গ্রহণযোগ্য।
৭. সরকারের তরফে দেওয়া জমির শংসাপত্র।
৮. স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া ফ্যামিলি রেজিস্টার।
৯. ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
১০. জাতিগত শংসাপত্র।
১১. অসমের নাগরিকদের ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী।
এছাড়া কমিশন আরও হাজার হাজার সন্দেহজনক ভোটারকে চিহ্নিত করেছে। তাঁদেরকেও SIR হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে বলে জানা গিয়েছে।
নোটিস ইস্যু হয়েছে
মাথায় রাখতে হবে, শুনানির জন্য দু'টি নোটিস ইস্যু করা হবে ভোটারের নামে। একটি নোটিস দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। অপরদিকে আর একটি থাকবে বিএলও-এর কাছে। নোটিস পাওয়ার পর কমিশন ভোটারকে এক সপ্তাহ সময় দেবে শুনানিতে যাওয়ার জন্য। সেই মতো দেওয়া হবে ডেট।
কোথায় হচ্ছে শুনানি?
শুনানি চলবে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও বিডিও অফিসের মতো জায়গায়। নোটিসে লেখা থাকবে কোথায় হবে শুনানি। সেই জায়গায় যেতে হবে ভোটারদের। নির্বাচন কমিশনের তরফে খবর, শুনানির জায়গায় একাধিক টেবিল থাকবে। এক একটি টেবিলে সর্বোচ্চ ১০০ জনের একদিনে শুনানি হবে। তারপর সেই সব তথ্য আপলোড করা হবে।
কাদের নথি লাগবে না?
যৌনকর্মী, ট্রান্সজেন্ডার, এবং বিশেষ কিছু ট্রাইবাল মানুষের জন্য এস আই আর হিয়ারিং এর ক্ষেত্রে কাগজপত্র না দেখালেও চলবে। যদি তাদের কাছে যথাযথ কাগজ বা ডকুমেন্ট না থাকে সেক্ষেত্রে লোকাল এনকোয়ারি করেও তাদের নাম ভোটার লিস্টে তুলে দিতে পারেন ইআরও। খবর নির্বাচন কমিশন সূত্র।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন)