• কাজ হারিয়ে বাড়িতে, নতুন বছরে চিন্তা পরিযায়ী পরিবারে
    এই সময় | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

    বাংলাদেশি সন্দেহে ওডিশায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল শেখের। ঠিক তার পরেই ওডিশায় একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণভয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন পাঁশকুড়ার হাজারখানেক পরিযায়ী শ্রমিক। ১ জানুয়ারি আনন্দের লেশমাত্র নেই কাজহারা মানুষগুলির মুখে। বছরের প্রথম দিনে নিজেদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখলেন ওডিশা থেকে 'বিতাড়িত' পরিযায়ী শ্রমিকরা। নতুন বছরে পেটের ভাত জোগাড় করাই এখন চ্যালেঞ্জ তাঁদের কাছে। ওডিশার জয়পুর থানা এলাকায় আট বছর ধরে নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি করছেন পাঁশকুড়ার কনকপুরের বাসিন্দা শেখ জসিমউদ্দিন।

    বজরং দলের হাতে আক্রান্ত হয়ে শনিবার বাড়ি ফিরে এসেছেন তিনি। বাড়িতে বয়স্ক বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে জসিমউদ্দিন গত বছরও ১ জানুয়ারি বাড়ি ফিরেছিলেন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে পিকনিক করেছিলেন। এ বার তিনি বাড়ি থাকলেও নেই সেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ওডিশায় ফেলে এসেছেন কাজের যন্ত্রপাতি। সেগুলি ফিরিয়ে আনা যাবে কি না, তা জানেন না। আপাতত পাঁশকুড়ায় অন্যের অধীনে কাজ করছেন। বললেন, 'প্রথম বার এমনটা হলো যে, সারা দিন বাড়িতেই থাকলাম, অথচ কোনও আনন্দ হলো না। কয়েক জন পিকনিকের জন্য ডাকাডাকি করছিল। কিন্তু যোগ দিইনি। হাতে টাকা না থাকলে আনন্দ করব কী করে?'

    জসিমউদ্দিনের স্ত্রী শর্মিলা খাতুন বিবি বলেন, 'নতুন বছর উপলক্ষে চারদিকে মাইক বাজছে। কিন্তু আমাদের পরিবারে আনন্দ নেই। আমার স্বামী কাজ হারিয়ে এখন বাড়িতে। বেঁচে থাকার জন্য নতুন লড়াই শুরু করতে হবে আমাদের সবাইকে।' একই ছবি দেখা গেল পাঁশকুড়ার গড়পুরুষোত্তমপুরের ঠিকাদার সাত্তার মল্লিকের বাড়িতে। বজরং দলের হাতে মার খেয়ে এবং তাড়া খেয়ে প্রায় চার লক্ষ টাকার কাজের সামগ্রী ওডিশাতে ফেলে বাড়ি ফিরে এসেছেন সাত্তার। নতুন বছরের প্রথম দিনে মনমরা সাত্তারের পরিবারের সদস্যরা। সাত্তারের স্ত্রী সাবিনা বিবি বলেন, 'আমার স্বামীর আয়ের উপরে আমরা সাত জন নির্ভরশীল। প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের আগে আমার স্বামী টাকা পাঠিয়ে দিতেন। দোকান থেকে কেক কিনে আনতাম। সবাই মিলে পিকনিক করতাম। এ বার কিছুই হয়নি। কাজের মানুষটাই আজ কাজ হারিয়ে ঘরে।'

    পূর্ব মেদিনীপুরে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ২৪ ডিসেম্বর জুয়েল শেখ খুন হওয়ার পরে জেলায় পরিযায়ী। বছরের প্রথম দিনটায় তাঁদের মনে আঁধার। ফিরে এসেছেন প্রায় তিন হাজার

    অল ইন্ডিয়া মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা উপদেষ্টা নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, 'ওডিশায় হিংসার ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় তিন হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন। রাজ্য সরকার ওই সমস্ত শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা করুক। যতদিন না কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে, ততদিন রাজ্য সরকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।'

    জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, 'পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের একটি পোর্টাল রয়েছে। পোর্টালে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানালেও রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করবে।'

  • Link to this news (এই সময়)