• দূষিত জল খেয়েই মৃত্যু, ছ’মাসের ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার
    বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • ইন্দোর: দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষার পর পুত্রসন্তান এসেছিল পরিবারে। চারিদিকে খুশির আমেজ। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হল না। দূষিত জল মেশানো দুধ খাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছে ছ’মাসের সদ্যোজাত। ইন্দোরের মারাঠি মহল্লার এই ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে। 

    দূষিত জলের কারণে ছেলের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুনীল সাহু। তাঁর কথায়, ‘ছেলের জ্বরের সঙ্গে ডায়েরিয়া হয়েছিল। ২৬ ডিসেম্বর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। দেখার পর তিনি কিছু ওষুধ দেন। তা নিয়ে বাড়ি চলে আসি। দু’দিন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। তারপর রাতে আবার জ্বর আসে। সঙ্গে শুরু হয় বমি। ২৯ ডিসেম্বর বাড়িতেই ওর মৃত্যু হয়।’ সুনীলের স্ত্রী সাধনা বলেন, ‘১০ বছর পর পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছিল। ওর মাত্র ছ’মাস বয়স হয়েছিল। আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি। এই নোংরা জলের কারণে আরও কত শিশুর মৃত্যু হবে জানা নেই।’

    মধ্যপ্রদেশের এই শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানেই দূষিত জল খেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে মধ্যপ্রদেশের শাসদকল। মূলত ভগীরথপুরার এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ইতিমধ্যে এবিষয়ে ইন্দোর হাইকোর্টে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার এ সংক্রান্ত যৌথ শুনানিতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত। শুনানিতে সরকারি আইনজীবী জানান, ইন্দোরের ১০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন ভগীরথপুরার বাসিন্দারা। সবকিছু শোনার পর সরকারকে আজ, শুক্রবারের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে ইন্দোর হাইকোর্ট। রিপোর্টে মৃতের পাশাপাশি অসুস্থদের সংখ্যা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারি হিসেব বলছে, সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, সংখ্যাটা তার থেকে অনেক বেশি।

    ভগীরথপুরার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৫ ডিসেম্বর ইন্দোর পুরসভা যে জল সরবরাহ করেছিল তাতেই সমস্যা ছিল। তদন্তে ভগীরথপুরায় জল সরবরাহের প্রধান পাইপলাইনে ছিদ্র পাওয়া গিয়েছে। ওই ছিদ্রের উপরেই রয়েছে শৌচাগার। সেখানকার জল একটি সিঙ্কহোলে ফেলা হচ্ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেখান থেকেই দূষিত জল ছিদ্রের মাধ্যমে পানীয় জলের সঙ্গে মিশেছে। ওই শৌচাগারের কাছেই রয়েছে ভগীরথপুরা পুলিশের চেকপোস্ট। এই অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রধান পাইপলাইন জল দিয়ে ধোয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোর পুরসভা। একইসঙ্গে বাসিন্দাদের শুক্রবার পর্যন্ত কলের জল না খেতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এলাকায় জল সরবরাহের জন্য ৬০ থেকে ৭০টি ট্যাঙ্কার মজুত করেছে প্রশাসন।
  • Link to this news (বর্তমান)