• এসআইআরে দুর্ভোগ নিয়ে কেন নীরব সিপিএম? প্রশ্ন লালদুর্গে
    বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভূমি সংস্কার আইন পাশ করে সাতের দশকে সিপিএম প্রমাণ করতে পেরেছিল, তারা অসহায় মানুষদের দল। তার সুফলও লালপার্টি পেয়েছিল। টানা ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড তৈরি করে। তবে, ‘লালদুর্গ’ পতনের কয়েক বছর আগে থেকেই বদলে যেতে থাকে কমরেডদের মনোভাব। অসহায় মানুষদের থেকে তারা দূরে সরতে থাকে। সেই ধারা এখনও অব্যাহত। এসআইআর নিয়ে মানুষ নাজেহাল হচ্ছে। নাকে অক্সিজেনের নল নিয়ে মানুষ শুনানি কেন্দ্রে আসছে। হুইল চেয়ারে বসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এত কিছুর পরেও নীরব সিপিএম। সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ নেই। তৃণমূল অবশ্য কোমর বেঁধে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে। তাদের দাবি, সিপিএম এবং বিজেপির সুর বহুদিন আগে এক হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এসআইআর নিয়ে তারা নীরব রয়েছে।

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব ভোটারের বয়স ৮৫ অতিক্রম করেছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে। তার নীচে যাঁদের বয়স, অসুস্থ হলেও তাঁদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে হবে।

    শুনানিতে যোগ দেওয়া লোকজন বলেন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা এই ঠান্ডায় নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন। মাঠে কাজ বন্ধ রেখে অনেককে শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে। সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরাও হয়রানির বাইরে নয়। সিপিএমের সমর্থক হিসেবে পরিচিত পারাজের মুজিবর রহমান এই জেলারই বাসিন্দা। তাঁদের পূর্বপুরুষরা এখানেই জন্মেছেন। কোনও কারণে তাঁর নাম ২০০২ সালের তালিকা থেকে বাদ চলে যায়। তাঁর বাবা-মা মারা গিয়েছেন। তাঁদের নাম নেই। তিনি বেশকিছু নথি নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। আধিকারিকরা জানিয়ে দিয়েছেন, কমিশন যে ১১টি নথি আনতে বলেছে, তার একটি দেখাতে হবে। না হলে তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে। 

    সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য হারাধন ঘোষ বলেন, এসআইআরের দুর্ভোগ নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করছি। আগামী দিনেও কর্মসূচি নেওয়া হবে। মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। তাঁদের অসহায়তা দেখে খারাপ লাগছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শুধু আমাদের দল লড়ছে। সিপিএম-বিজেপি রামধনু জোট আছেই। তাই ওরা মুখে কুলুপ এঁটেছে। ওরা বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে। কিন্তু, সেটা হবে না। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, নির্বাচন কমিশন কীভাবে কাজ করবে, সেটা বিজেপি ঠিক করে না। তবে, তাদের পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য মানুষকে নাকাল হতে হচ্ছে।

    সিপিএম কর্মীদের দাবি, নেতৃত্ব এই ইস্যুতে মানুষের পাশে থেকে মন জয় করতে পারত। কিন্তু কেন তারা নীরব রয়েছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। রাজ্য নেতৃত্ব জেলায় এসে কোনও সভা করলে তৃণমূলের সমালোচনা করতেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করছে। বিজেপিকে ততটা আক্রমণ করছে না। এতে তো মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধবেই।
  • Link to this news (বর্তমান)