• আর নিতে হবে না উইলের প্রোবেট, উত্তরাধিকার আইনে সুরাহা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ধর্মাবলম্বীদের
    বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ব্রিটিশ আমলের বিধির গেরো। আর সেই গেরোতেই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি হাতে আসার ক্ষেত্রে বিস্তর ঝঞ্ঝাট পোহাতে হত মূলত হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও পার্সি ধর্মাবলম্বীদের। তবে গোটা দেশ নয়, এই বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য ছিল শুধুমাত্র তিন ‘প্রেসিডেন্সি টাউন’ মুম্বই, চেন্নাই ও কলকাতার জন্য। কারণ, বিশেষ ওই বিধিতে প্রিয়জন বা নিকটাত্মীয়ের করে যাওয়া উইলের ‘প্রোবেট’ করা ছিল বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, সেই উইল বা ইচ্ছাপত্রে আদালতের অনুমোদন ছাড়া সম্পত্তির দখল নেওয়া ছিল অসম্ভব। এর ফলে ন্যায্য অধিকার পেতেও বাড়তি সময় ও অর্থের ব্যয় হত। আর এই প্রতিবন্ধকতার নেপথ্যে ছিল ১৯২৫ সালের উত্তরাধিকার আইনের ২১৩ ধারা। সদ্য শেষ হওয়া সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ঔপনিবেশিক আইনের সেই ধারা প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও বহুকাঙ্ক্ষিত সংশোধনীও। সংসদে পাশ হওয়ার পর গত ২০ ডিসেম্বর সেই সংশোধনী বিলে মিলেছে রাষ্ট্রপতির সম্মতি। এর ফলে এখন থেকে উইলের প্রোবেট নেওয়াটা আর বাধ্যতামূলক রইল না। কেন্দ্রের বক্তব্য, উত্তরাধিকার আইনের শতাব্দী প্রাচীন প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে দেশজুড়ে চালু হল অভিন্ন বিধি।

    ভারতীয় উত্তরাধিকার আইনের সংশ্লিষ্ট ২১৩ ধারাটি ছিল অঞ্চল ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের প্রতীক। শুধুমাত্র বম্বে, মাদ্রাজ ও কলকাতা হাইকোর্টের অধীনে বিশেষ পাঁচটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কেউ সম্পত্তির উইল করলে, তাতে প্রোবেট নেওয়াটা ছিল বাধ্যতামূলক। উইল অন্য কোথাও করা হলেও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি যদি এই তিনটি শহরের হয়, সেক্ষেত্রে পর্যন্ত নিতে হত প্রোবেট। দেশের অন্যত্র এই নিয়ম কার্যকর ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ওই ২১৩ ধারা নিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের আপত্তি। এবার সংশোধনী বিল এনে সেই বিতর্কিত ধারাটিই বাতিল করা হল। বিলটি নিয়ে সংসদে বিতর্ক চলার সময় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়ালও ২১৩ ধারাটিকে ঔপনিবেশিক শাসনের ধ্বংসাবশেষ বলে বর্ণনা করেন। মন্ত্রীর যুক্তি ছিল, এর ফলে আইনি বৈষম্যের বোঝা বইতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, সংশোধনী আইনের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করে উত্তরাধিকার আইনকে স্বচ্ছ করে তোলা হয়েছে। সংশোধন মোতাবেক, প্রোবেট আর বাধ্যতামূলক নয়। তা ঐচ্ছিক। অর্থাৎ, কেউ ইচ্ছা করলে বৃহত্তর আইনি নিশ্চয়তার স্বার্থে কিংবা সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের কারণে প্রোবেট নিতে আদালতে যেতেই পারেন। কিন্তু তা আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। প্রোবেট কী?উইল করে যাওয়া কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি হাতে পাওয়ার জন্য উত্তরাধিকারীদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। উইল মোতাবেক সম্পত্তির সেই দাবিদারদের বৈধতা শুনানির মাধ্যমে খতিয়ে দেখেন বিচারক। আদালতের অনুমোদনের ভিত্তিতে উইলের এই আইনি বৈধতা নির্ধারণকেই প্রবেট বলে। এর জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আইনজীবীর খরচ আলাদা। এই আইনি প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষও।
  • Link to this news (বর্তমান)