ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির চক্রের হদিশ, বারুইপুরে গ্রেপ্তার দুই
বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির চক্রের পর্দা ফাঁস করল বারুইপুর থানা। বারুইপুরের খাসমল্লিক এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে রীতিমতো পরিকাঠামো গড়ে চলত এই কারবার। সেখানে হানা দিয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম মেহবুব মোল্লা ওরফে রাজ ও প্রীতম বসু। তাদের কাছ থেকে মিলেছে প্রচুর পাসপোর্ট। পুলিশের দাবি, এগুলির মধ্যে বেশিরভাগই ভুয়ো। কারণ তাতে স্ট্যাম্প বা পাসপোর্ট নম্বর ছিল না। বাকিগুলিতে নাম ও ঠিকানা ছিল। সেগুলি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের সঙ্গে এই কারবারে আর কারা যুক্ত, তাদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। সূত্রের খবর, মেহবুবের বাড়ি মগরাহাট এলাকায়। প্রীতম নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার বাসিন্দা।
জানা গিয়েছে, গত সাত-আট মাস ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকছিল প্রীতম ও মেহবুব। প্রীতম কল সেন্টারে কাজ করত। তারা বিভিন্ন লোককে ফোন করে ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিদেশে ভালো চাকরি ও মোটা টাকা বেতনের টোপ দিয়ে নিজেদের অফিসে ডেকে পাঠাত। ডায়মন্ডহারবার ও কলকাতায় তাদের অফিস ছিল। টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিত তারা। ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ব্যক্তির নামে পাসপোর্ট পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মেহবুব ডায়মন্ডহারবার আদালতে মুহুরির কাজ করত। প্রীতম আগে মুম্বইয়ে একটি কলসেন্টারে কাজ করত। পরে মেহবুবের সঙ্গে পরিচয়ের পর সেই কাজ ছেড়ে দেয় প্রীতম। এরপর এই নতুন কারবার খুলেছিল দু’জন। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বিহার, ওড়িশা সহ এ রাজ্যের নদীয়া, হুগলি জেলার বহু বাসিন্দার নাম ও ঠিকানা লেখা পাসপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। এখন পুলিশের সামনে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। যেমন কতজনের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে, প্রতারণার টাকার অঙ্ক কত ইত্যাদি। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার দু’জনকে জেরা করে বাকি তথ্য জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা। এদিকে, যে বাড়িতে ভাড়া থাকত প্রীতম ও মেহবুব, তার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও ধৃতদের ডায়মন্ডহারবার ও কলকাতার অফিসেও তল্লাশি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। নিজস্ব চিত্র