• উচ্ছ্বাস-উচ্ছৃঙ্খলতায় বর্ষবরণ, গ্রেপ্তার ২৬৩
    বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া:  ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত দেড়টা। যাদবপুর থানার সামনে গার্ডরেল বসিয়ে নাকা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা। হাতে ‘ব্রিদ অ্যানালাইজার’ মেশিন (চালক মদ্যপ কি না, তা পরীক্ষা করার যন্ত্র)। বন্ধুদের নিয়ে ৮বি‘র দিক থেকে গাড়ি চালিয়ে যোধপুর পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন এক যুবক। আটকানো হয় গাড়িটিকে। যন্ত্র্র ‘অন’ করে চালকের মুখের কাছে নিয়ে যান এক সার্জেন্ট। ‘ফুঁ দিন’ বলার আগেই সিগন্যাল দিতে শুরু করে ব্রেথ অ্যানালাইজার। চালকের নাকের প্রশ্বাসেই মদের প্রমাণ ভরপুর। 

    ‘গাড়ি বন্ধ করে বেরিয়ে আসুন। কত মদ খেয়েছেন?’— ট্রাফিক সার্জেন্টের প্রশ্নের জবাবে আচ্ছন্ন চোখে চালক বললেন, ‘আজ তো নিউ ইয়ার। আজকের দিনেও ধরবেন স্যার?’ উর্দিধারীর ধমক খেয়ে যুবকের দাবি, ২৫০ মিলি’র বেশি মদ্যপান করেছেন তিনি। সেখান থেকেই বেরিয়ে তার পর দুই বন্ধুকে গড়িয়াহাটে ছেড়ে বালিগঞ্জে রিচি রোডের বাড়িতে ফিরবেন। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।  চালকের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়।  

    লালবাজার জানিয়েছে, বর্ষবরণের রাতে মদ্যপদের দাপট রুখতেই শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্লক রেইডের আয়োজন করা হয়। বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টে পর্যন্ত শহরের রাস্তায় ট্রাফিকবিধি লঙ্ঘনে মোট ১৩০১টি মামলা রুজু হয়েছে। তার মধ্যে মদ্যপ চালক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৪৯ জনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। একইসঙ্গে, রাতের শহরে বিনা হেলমেটে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ৪৮০ জন বাইকচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্দিষ্ট ট্রাফিক গার্ড। বিপজ্জনক গাড়ি ও বাইক চালানোয় অভিযুক্ত ১৭৮ জন। 

    অন্যদিকে, বর্ষবরণের রাতে কলকাতা ও শহরতলিতে একাধিক দুর্ঘটনা ও অভব্যতার ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। কলকাতার গল্ফগ্রিন মোড়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উল্টে যায় একটি দামী এসইউভি গাড়ি। তার জেরে জখম হন চালকের পাশে বসা এক তরুণী। যদিও তাঁর আঘাত গুরুতর নয়। ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় যাদবপুর ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ। বর্ষবরণের রাতেই নিউটাউনের ইকোস্পেস মার্কেটে একটি রেস্তোরাঁয় ‘ডিম-তড়কা’ বানিয়ে না দেওয়া ভাঙচুর চালায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, ‘ডিম–তড়কা’ অর্ডার করেছিলেন একদল যুবক। কিন্তু সেই অর্ডার নেওয়া যাবে না। তড়কা বানানোর উপকরণ ডিম শেষ হয়ে গিয়েছে বলে জানান রেস্তরাঁ কর্মীরা। এরপর যুবকদের মধ্যে একজন পাশের দোকান থেকে ডিম কিনে এনে তড়কা বানিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু, তাতেও বানাতে অস্বীকার করায় সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁয় ভাঙচুর চালায় যুবকরা। খড়দহের একটি দোকানেও দুষ্কৃতী তাণ্ডবে ঘটনা ঘটে ওই রাতে। তালা ভেঙে সিগারেট ও ১৭ হাজার টাকা দোকান থেকে হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে, বর্ষবরণের রাতে হাওড়ার দাসনগর ট্রাফিক গার্ড একটি বাইক দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন, চালক ও আরোহী দু’জনেই মদ্যপ। বাইক আরোহী আরোহী পুলিশের উপর চড়াও হয়। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিককে আঙুল উঁচিয়ে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। 
  • Link to this news (বর্তমান)