• অফিস টাইমে ঢুকছে বড় লরি, নিয়মের বালাই নেই জয়নগরে
    বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: অফিস টাইমে রাস্তায় চলে আসছে বড় লরি। একে সংকীর্ণ রাস্তা। তার উপরে রাস্তার দু’ধারে যত্রতত্র রেখে দেওয়া হচ্ছে বাইক। গজিয়ে উঠছে একের পর এক অটো-টোটো স্ট্যান্ড। এর জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলছে যানজট। হেঁটে যাওয়ার জায়গাটুকুও নেই। নাভিশ্বাস উঠছে মানুষের। এটাই রোজকার চিত্র জয়নগর শহরের। যানজটে আটকে থাকছে অ্যাম্বুলেন্সও। আর সব জেনেও নীরব পুলিশ প্রশাসন।

    এই প্রসঙ্গে জয়নগর মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার বলেন, সত্যি যানজট বেড়ে চলেছে। পুলিশ ও পুরসভা মিলে সমাধানের চেষ্টা হয়েছিল। কয়েকদিন ঠিক থাকলেও আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে গিয়েছে পরিস্থিতি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। আর বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, বড় লরি কখন এই শহরে ঢুকতে পারবে, তা কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে যানজট সমস্যা দূর করার চেষ্টা হচ্ছে।

    জয়নগর শহরে ঢোকার মুখে উত্তরপাড়া মোড় থেকে শুরু হয় যানজট। গঞ্জের মোড়ে বাজারের কাছে এগলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। রাস্তা সংকীর্ণ। তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে পরপর বড় লরি। ওই এলাকায় থাকে না কোনও ট্রাফিক পুলিশ। তবে আছেন সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু তাঁদেরকে থোড়াই কেয়ার করেন লরিচালকরা। থানার মোড়ের কাছে গিয়ে গাড়ি আর এগতে পারে না। কারণ, রাস্তার দু’ধারে যত্রতত্র বাইক দাঁড়িয়ে। মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে টোটো-অটো। কাছেই জয়নগর থানা। এমনকী যানজটে আটকে পড়ছে পুলিশের গাড়িও। একই অবস্থা রথতলা মোড়ে। তারপরে স্টেশন রোডে। এখানে রাস্তার দু’ধারেই অটো দাঁড়িয়ে আছে। টোটো যে যার মতো দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ার হাতে লাঠি, মুখে বাঁশি নিয়ে ডিউটি করছেন। কিন্তু নেই কোনও ট্রাফিক অফিসার। দোকানের সামনে অটো দাঁড়িয়ে। তিতিবিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। রাস্তায় আটকে অ্যাম্বুলেন্স। রোগীর হাঁসফাঁস অবস্থা। স্টেশনে সঠিক সময়ে যেতে পারেন না যাত্রীরাও। অলিগলিতেও অটো দাঁড়িয়ে থাকে।

    বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারও কিছু বলার নেই। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেন চালকরা। সব দেখেও পুলিশ, পুরসভা প্রশাসন ঘুমিয়ে আছে। ট্রাফিক পুলিশের দেখাই মেলে না। কবে এই সমস্যা মিটবে, প্রশ্ন ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)