সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: পুকুর পাড়ের চারিদিকে বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে দিশা দেখাচ্ছেন পাথরপ্রতিমার শ্রীধরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দিন্দাপাড়ার বাসিন্দা শ্যামল সামন্ত। প্রায় ছ’ বছর আগে একটি সংস্থা তাঁকে মধু সংগ্রহের জন্য উৎসাহিত করেছিল। তখন তিনি তিনটি কাঠের বাক্স পুকুর পাড়ে বসিয়ে তার ভিতরে মৌমাছি ছেড়েছিলেন। সেই মৌমাছিগুলি সেখানে মৌচাক তৈরি করে। তিন মাস পর চাক ভেঙে শ্যামলবাবু সাড়ে তিন কেজি মধু পেয়েছিলেন। তখনই তিনি মধু সংগ্রহের প্রতি উৎসাহিত হন। তারপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি বাক্সের সংখ্যা বাড়িয়েছেন।এবছর মধু সংগ্রহের জন্য প্রায় দশটি বাক্স পুকুর পাড়ের চারিদিকে বসিয়েছেন। এদিকে তাঁর এই মধু সংগ্রহের পদ্ধতি দেখে গ্রামবাসীরাও উদ্বুদ্ধ। এবছর আরও একজন গ্রামবাসী একই পদ্ধতিতে পুকুর পাড়ে বেশ কয়েকটি বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। এবিষয়ে শ্যামল সামন্ত বলেন, কোনও জায়গা নষ্ট না করে, পুকুরপাড়ের চারিদিকে কাঠের বাক্স বসিয়ে খুব সহজেই মধু সংগ্রহ করা যায়। পুকুর পাড়ে বাক্স বসানোর সুবিধাও রয়েছে। কারণ তাতে মৌমাছিরা সহজেই জল খেতে পারে। এছাড়াও পুকুর পাড়ে সাধারণত বেশি সংখ্যক গাছ থাকায় মৌমাছি গুলি সহজেই ফুলের মধু সংগ্রহ করতে পারে। এক একটি বাক্সে এক থেকে দেড় কেজি করে মধু পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বাক্সের সংখ্যা বেশি হলে আর্থিক দিক থেকে লাভবানও হওয়া যায়। জানা গিয়েছে, প্রথমে ওই বাক্সের ভিতরে কয়েকটি খুদে মৌমাছি ছাড়া হয়। তারাই সেখানে মৌচাক তৈরি করে। দুই থেকে তিন মাস অন্তর চাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করা হয়। বাজারে এই মধুর চাহিদাও রয়েছে। কিলো প্রতি ভালো দামও পাওয়া যায়। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক কাঠের বাক্স বানিয়ে বেশি পরিমাণ মধু সংগ্রহের চিন্তাভাবনা রয়েছে। নিজস্ব চিত্র