দক্ষিণ দমদম: সব পুর প্রতিনিধির সঙ্গে কাল বৈঠকে তৃণমূল নেতৃত্ব
বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার দুই কাউন্সিলার। যদিও তা এখনও গৃহীত হয়নি। এই আবহে শনিবার পুরসভার সব কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করবে তৃণমূল নেতৃত্ব। বারাসতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়ে বিভিন্ন পুরসভায় প্রস্তুতি বৈঠক চলছে। শনিবার দক্ষিণ দমদমে তেমনই প্রস্তুতি বৈঠক হবে। সেখানে কাউন্সিলারদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুনবেন দলীয় নেতারা। তারপর দুই পদত্যাগী কাউন্সিলারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল।
বুধবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপা পান্ডে ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (ফুচু) বারাকপুরের মহকুমা শাসক ও পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও কাউন্সিলার পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গৃহীত হয় পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে। সেই মিটিং ডাকার কথা চেয়ারম্যানের। ফলে আদৌ চেয়ারম্যান ওই বৈঠক ডাকবেন কি না, বা ডাকলেও বোর্ড মিটিংয়ে পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে দক্ষিণ দমদম পুরসভার মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি দমদম বিধানসভা এলাকায়, আটটি রয়েছে রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে, বাকি ১০টি বিধাননগর বিধানসভা এলাকার মধ্যে। তাছাড়া বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রটি আবার দলের পৃথক সাংগঠনিক জেলার মধ্যে। ফলে এক অদ্ভুত সমীকরণে চলে দক্ষিণ দমদম পুরসভা। দমদম বিধানসভা এলাকায় দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু বনাম প্রবীর পাল ওরফে কেটির লড়াই সর্বজনবিদিত। গত বিধানসভা ভোট থেকেই সংগঠনের কাজে দক্ষ প্রবীরবাবু কোণঠাসা। বিধায়ক তথা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিশেষ ঘনিষ্ঠ দেবাশিসবাবু। তিনি নির্দল কাউন্সিলার হয়ে পুরসভা ভোটে জেতার পর তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। দলে না থেকেও তিনি দলের কর্মসূচি, মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সহ নানা কর্মসূচিতে থাকতেন। দু’দফায় দলে যোগদানের কর্মসূচির নাটক দেখেছে শহরবাসী।
সম্প্রতি প্রবীরবাবু দলের দমদম, উত্তর দমদম ও রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই কো-অর্ডিনেটররা এলাকায় সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি প্রচার, এলাকার বিশিষ্টদের সঙ্গে দেখা করে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করবেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রবীরবাবু দায়িত্ব পেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেবাশিসবাবু। পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজে দমদম বিধানসভা এলাকাকে ব্রাত্য রাখা হয়েছে, এই অভিযোগ ও শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, তিনি আসলে ব্ল্যাকমেইল করে দলের মধ্যে নিজের গুরুত্ব ও পদ পেতে চাইছেন। এ নিয়ে দক্ষিণ দমদমে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। যদিও দেবাশিসবাবুর দাবি, স্রেফ শারীরিক অসুস্থতার জন্য পদত্যাগ। দমদম বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, দল সমস্ত বিষয় নজরে রেখেছে। আলোচনার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।