‘কল্পতরু’ দিবস: দক্ষিণেশ্বর ও কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ভক্ত সমাগম
বর্তমান | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: পয়লা জানুয়ারি রামকৃষ্ণদেবের ‘কল্পতরু’ লীলাভূমি কাশীপুর উদ্যানবাটিতে পালিত হল উৎসব। পাশাপাশি দক্ষিণেশ্বর, রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান সহ রামকৃষ্ণের পদধূলিধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয় দিনটি। উদ্যানবাটিতে তিন জানুয়ারি পর্যন্ত হবে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কল্পতরু উৎসবকে ঘিরে সর্বত্র দেখা গিয়েছে অগণিত মানুষের ভিড়।
এদিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দির কার্যত ভেসে গিয়েছে জনসমুদ্রে। বুধবার, ৩১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে মন্দিরের দরজায় ভক্তদের ভিড় জমে। বৃহস্পতিবার কালীর মন্দিরের সিংহদুয়ার খোলে ভোর চারটের সময়। ঠাকুরের দর্শন শুরু হয় ভোর পাঁচটায়। বেলা যত গড়িয়েছে ভিড় ততই বেড়েছে। ভক্তরা ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রেন, মেট্রো ও ফেরিতে মন্দিরে আসেন। বেশি মানুষ আসেন মেট্রোয়। মানুষের নিরাপত্তায় পাঁচশোরও বেশি পুলিশ মোতায়েন ছিল। সাদা পোশাকে এবং মহিলাদের নিরাপত্তায় ছিল কমিশনারেটের উইনার্স টিম। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথেও ছিল নজরদারি। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরাতেও নজর রাখে পুলিশ। দক্ষিণেশ্বর অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, ‘উৎসব সুষ্ঠুভাবে পালিত হয়েছে। এ বছর মন্দির চত্বরে আয়রন গার্ডরেল বসানোয় সারি দিয়ে ভক্তরা পুজো দিতে পেরেছেন।’
কাশীপুর উদ্যানবাটিতেও এদিন ভোর থেকে মানুষের ভিড় জমে। ভক্তদের সুষ্ঠুভাবে প্রণামের সুযোগ করে দিতে তৈরি করা হয়েছিল ব্যারিকেড। কাশীপুর রোড সহ আশপাশ এলাকা একসময় জনসমুদ্রের চেহারা নেয়। উদ্যানবাটির যে স্থানে রামকৃষ্ণ কল্পতরু হয়েছিলেন সেখানে ভিড় ছিল সর্বাধিক। মূল মন্দিরে হয় ব্যাপক ভক্ত সমাগম। ভোর সাড়ে চারটেয় মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে সূচনা হয় উৎসবের। রামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পুজোপাঠ ছাড়া ছিল জীবনবেদ নিয়েও আলোচনা, অনুষ্ঠান। কাশীপুর রামকৃষ্ণ মহাশ্মশানেও কল্পতরু উৎসব সমিতির উদ্যোগে হয়েছে দিনভর নানা অনুষ্ঠান। শনিবার গীতিনাট্য ‘মহাকবি গিরীশচন্দ্র’ ও বাউল গানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।