• দিল্লিতে দরবার নয়, শাহ চান পারফরম্যান্স, ’২৬–এর টিকিট পেতে পদ্মে কড়া বেঞ্চমার্ক
    এই সময় | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: ‘পারফর্ম’ করলে টিকিটও ‘কনফার্ম’— কলকাতায় এসে এই বার্তাই স্পষ্ট ভাবে বিজেপি বিধায়কদের দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী দু’মাস কতটা ‘পারফর্ম’ করলে ফের টিকিট নিশ্চিত হবে, দলীয় বিধায়কদের সেই রূপরেখাও তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন শাহ।

    বিধানসভা ভোটের আর মাস চারেকও দেরি নেই। ফলে দিল্লিতে যাতায়াত বেড়েছে বঙ্গের পদ্ম–বিধায়কদের। লক্ষ্য একটাই, ’২৬–এর টিকিট পাকা করা। কেউ কোনও প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দরজায় কড়া নাড়ছেন, কেউ আবার সটান হানা দিচ্ছেন দলের শীর্ষ সাংগঠনিক নেতাদের বাড়িতে। সূত্রের দাবি, এ সব খবর শাহের কাছে ছিল। দিল্লিতে বাংলার বিজেপি বিধায়কদের গতিবিধির উপরে কড়া রেখেছিলেন শাহ। তিনি বিলক্ষণ জানেন, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই ‘স্ট্রং লবি’ ধরতে দিল্লিতে আনাগোনা বাড়বে বাংলার বিজেপি নেতাদের। সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দাঁড়ি টানতে শাহ নিজেই কলকাতায় এসে বঙ্গ–বিজেপিকে বুঝিয়ে গেলেন, ‘দাদা’ ধরে কোনও লাভ নেই। বিধানসভা ভোটে টিকিট পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি— আগামী দু’মাসের পারফরম্যান্স। এ রাজ্যে বিজেপির ৬৫ জনই বিধায়কের গতিবিধিই যে এখন তাঁর আতস কাচের নীচে, তারই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন শাহ।

    বুধবার সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি হোটেলে এ রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক–সাংসদদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্রের দাবি, শুরুতেই বিধায়কদের তিনি স্পষ্ট বলে দেন, ‘বড় নেতাদের দরজায় কড়া নেড়ে কোনও লাভ হবে না। অযথা ছোটাছুটি করবেন না। সেই সময়টা নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে দিন। ফের টিকিট চাইলে পারফর্ম করুন। কাজ করলে আপনার টিকিট নিশ্চিত। কেউ আটকাতে পারবে না।’

    কিন্তু আগামী দু’মাস কতটা পরিশ্রম করলে তাকে ‘ভালো পারফর্ম’ হিসেবে ধরা হবে? কতটা কাজ করলে খুশি হবেন শাহ? বুধবারের বৈঠকে এই প্রশ্নগুলি কোনও বিধায়ক সরাসরি করেননি শাহকে। কিন্তু তাঁদের মনে যে প্রশ্নগুলি উঁকি মারছে, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার সেকেন্ড ম্যান‍ের। তাই নিজে থেকেই শাহ জানিয়ে দেন, তাঁর চোখে ভালো পারফরম্যান্সের বেঞ্চমার্ক ঠিক কী। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে বিধায়কদের উদ্দেশে শাহ বলেন, ‘এখন থেকে সপ্তাহে অন্তত চার দিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রাত কাটাতে হবে। যত বেশি সম্ভব ভোটারদের বাড়ি যেতে হবে। কবে কোন এলাকার কোন কোন ভোটারের বাড়ি যাওয়া হবে, সেই তা‍লিকা আগেই তৈরি করে রাখতে হবে।’ শাহের সংযোজন, ‘সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি পথসভা করতে হবে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায়। নিয়ম করে যেতে হবে এলাকার বিশিষ্ট মানুষদের বাড়ি।’ বিধায়কদের তাঁর পরামর্শ, ‘আগামী দু’মাস এ ভাবে কাজ করুন। কারও কাছে টিকিটের জন্য আকুতি করতে হবে না। দল আপনার বাড়ি এসে টিকিট দিয়ে যাবে।’ অর্থাৎ, ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে ফের টিকিট পাওয়ার জন্য বিজেপি বিধায়কদের সামনে এখন দু’মাসের চ্যালেঞ্জ।

    কিন্তু প্রশ্ন হলো, নজর রাখবে কে? অর্থাৎ, কোন বিধায়ক সপ্তাহে কতগুলি পথসভা করছেন, আদৌ তাঁরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন কি না, এ সব অমিত শাহ জানবেন কী ভাবে? বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষনেতার কথায়, ‘অমিত শাহের নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী। এ রাজ্যে একটি পাতা পড়লেও তিনি জানতে পারেন। একাধিক বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা বাংলায় কাজ করছে। তারা নিয়মিত রিপোর্ট পাঠায় শাহের দপ্তরে। ফলে কোনও বিধায়ক যদি ভাবেন কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর চোখে ধুলো দেবেন, তা হলে তাঁর ফের বিজেপির টিকিটে লড়ার আশা ছেড়ে দেওয়াই ভালো।’

    শাহ দু’মাসের পারফরম্যান্স চ্যালেঞ্জ দলীয় বিধায়কদের দিলেও বাকি টিকিট প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রেও যে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, সেটা বুঝতে গেরুয়া শিবিরের কারও সমস্যা হয়নি। রাজ্যের যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির বিধায়ক নেই, সেখানেও প্রার্থী বাছাই যে পারফরম্যান্সের নিরিখেই হবে সেই বার্তাও শাহের বঙ্গ–সফরের নির্যাস থেকে স্পষ্ট।

  • Link to this news (এই সময়)