অয়ন ঘোষাল ও কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: পাখির চোখ ছাব্বিশ! আর সেই ছাব্বিশের মহারণের আগেই বঙ্গ বিজেপিতে ফের ফ্রন্টফুটে দিলীপ ঘোষ। আর ফিরেই স্বীকৃতি। ঘর পেলেন দিলীপ ঘোষ! সল্টলেক বিজেপি দফতরে প্রাক্তন সভাপতির জন্য ঘরের ব্যবস্থা করলেন বর্তমান। দিলীপ-শমীক বৈঠকের পরেই ঘরের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হন শমীক।
বঙ্গে এসেই দিলীপ ঘোষকে ডেকে একান্তে বৈঠক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। আর তারপরই যেন ফের স্বমহিমায় বঙ্গ বিজেপির অন্যতম সফল রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ! দিলীপ ঘোষ বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন-ই বাংলায় গেরুয়া শিবিরের শিকড় মজবুত হয়েছে। তিনি নিজেও ভোটে জিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, সাংসদ হয়েছেন। দাবাং নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু এরপর দলে দায়িত্বের পালাবদলের পরই বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে 'সমীকরণ' অদল-বদল ঘটে! নব্য ও পুরনো বিজেপির মধ্যে মত-বিভাজন যেন সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। 'দূরত্ব' তৈরি হয় দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও। দীর্ঘদিন দলের কোনও কর্মসূচিতেও ডাক পাননি দিলীপ ঘোষ। প্রায় ৮ মাস ব্রাত্য থাকার পর ছাব্বিশের কুরুক্ষেত্রেই আগেই আবার ফ্রন্টফুটে দিলীপ ঘোষ। ভোট বৈতরণী পার করতে বঙ্গ বিজেপির 'দাবাং' নেতার 'শরণাপন্ন' বিজেপির 'চাণক্য' শাহ! আর ফ্রন্টফুটে ফিরতেই সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে একেবারে স্ট্রেট ব্যাটে চালিয়ে খেললেন দিলীপ ঘোষ।
'কুণাল ঘোষ বলেছেন দীঘা জগন্নাথ মন্দির দর্শন আপনার ভাগ্য ফেরাল'
উনি প্রবচন দিতেই থাকেন। লোকে মজা পায়। উনি সব ব্যাপারেই মন্তব্য করে থাকেন। ২৬ এর নির্বাচনে জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদেই রাজ্যে পরিবর্তন হবে।
'আপনার ভাগ্যে যে জোন পড়বে তার মধ্যে অন্তত ৩৫টি আসন তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ'
পার্টি যাকে যে দায়িত্ব দেবে সেটা সে করবে। আমার এখনও জোন ভাগ নিয়ে কিছু জানা নেই। আমি ৩ বার ভোটে লড়েছি। ৩ বার সভাপতি বা অন্য দায়িত্ব সামলেছি। নিজের ছাড়াও অন্যের হয়ে প্রচার করেছি। ২১-এর ভোটে আমি প্রার্থী ছিলাম না।
'একা শুভেন্দুকে দিয়ে হবে না বুঝেই কি আপনাকে স্বমহিমায় ফেরাল দলের হাইকম্যান্ড?'
পার্টি তো কোনও একক ব্যক্তির ভরসায় চলতে পারে না। কিছু প্রমিনেন্ট মুখ থাকে যাদের অভিজ্ঞতা বেশি। তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও একজন গোটা পশ্চিমবঙ্গ জিতিয়ে দেবে সেটা সম্ভব নয়।
'আপনার তো এমন দুর্দিনও গিয়েছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসেছেন আর আপনাকে বিমান ধরে অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছে'
হতে পারে। পার্টি এক্সপেরিমেন্ট করে মাঝে মাঝে। আগে তো ভোটে লড়তে হয়নি। তখন দল ভেবেছিল এক-একটা মুখকে এক-একবার সামনে আনি। দেখি পাবলিক কিভাবে রিঅ্যাক্ট করে। মাঝে কিছুদিন সেই প্রক্রিয়া চলেছে।
হুমায়ুন যদি সংখ্যালঘু ভোট কাটুয়ার ভূমিকায় নামেন তাহলে তো আপনাদের অ্যাডভান্টেজ
গতবার আইএসফ নিয়েও একইভাবে বিস্তর চর্চা হয়েছিল। রেজাল্ট কী হল? আমার মনে হয় ওই দলের সঙ্গে কোনও না কোনও পার্টির সেটিং হবে। গতবার নওশাদ সিদ্দিকী বড় বড় সভা করেছিল। আর হুমায়ূন কবির এখনও পর্যন্ত নিজের এলাকা ছেড়ে বেরোননি। তার পার্টির কি ভবিষ্যৎ? উনি সকালে একরকম বলেন। বিকেলে আরেক রকম। মানুষ তো এইভাবে বিশ্বাস করবে না। উনি আগে ওনার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করুন। উনি জল মাপছেন। দাম বাড়াচ্ছেন।
হুমায়ুনের ব্রিগেড সমাবেশ
উনি আগেও অনেক বড় বড় কথা বলেও কিছুই করতে পারেন নি। উনি যদি সত্যিই ব্রিগেডে ১০ লাখ মানুষ জমা করতে পারেন নিঃসন্দেহে ওনার পার্টি একটা বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসবে।
অভিষেক আজ থেকে আবার ফুল অ্যাকশনে
ভোটে সব পার্টি অ্যাক্টিভ হয়। ওরাও করছে। আমরাও করব। ডায়লগ দিয়ে ইলেকশন জেতা যায় না। সিপিএমকে একসময় অজেয় ভাবা হত। কেউ ভাবতেই পারেনি সিপিএম হেরে যেতে পারে। তারপর সিপিএম এমনভাবে হারল আর কোনওদিন খুঁজে পাওয়া গেল না। বিজেপি অলরেডি সাড়ে ৩ হাজার পথসভা করে ফেলেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি উত্তর থেকে দক্ষিণ ট্যুর শুরু করবেন। আমরাও থাকব।
শীতকালে শীতঘুম ভাঙল দিলীপ ঘোষের?
আমার শীতঘুম ভাঙেনি। আমি রোজ ইকো পার্ক এসেছি। কথা বলেছি। কার কাছে কখন কার গুরুত্ব কম-বেশি, সেটা পার্টি জানে। দিলীপ ঘোষ আগেও যা ছিল এখনও তাই-ই আছে। ভোটের মুখে আমাকে যে কাজ দেওয়া হল সেটাই করব।
প্রতিষ্ঠা দিবসে ফের গোষ্ঠীকোন্দল তৃণমূলে
কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল তৈরির সময় এরা সমস্ত বদ গুণ নিয়ে এসেছে। ওটা তৃণমূলের ডিএনএ-তেই আছে। কংগ্রেস গোষ্ঠীকোন্দল করতে করতে শেষ হয়ে গিয়েছিল। তৃণমূল সেই পথেই হাঁটছে। ক্ষমতা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
কি ভোকাল টনিক দিলেন অমিত শাহ?
আমি নিজে কোনও ভোকাল টনিক দিইনি। কাজ শুরু করিনি এখনও।