• কলকাতা পুলিশের প্রতি ডিভিশনে চিত্রগ্রাহকের দল
    আনন্দবাজার | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বা আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্তকারীদের প্রধান অস্ত্র নিজেদের ক্যামেরা দলের ফুটেজ। শহরের কোথাও গোলমাল বা বিক্ষোভের খবর পেলে লালবাজার থেকে সেখানে পৌঁছে ছবি তুলতেন চিত্রগ্রাহক। এ বার লালবাজারের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি ডিভিশনে একটি করে চিত্রগ্রাহকের দল তৈরি হতে চলেছে। এর জন্য কলকাতা পুলিশের ১০টি ডিভিশনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে দু’টি করে অত্যাধুনিক ক্যামেরা। ইতিমধ্যে ওই ক্যামেরা কেনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ক্যামেরা ডিভিশনকে দেওয়ার পরে সেখানেও লালবাজারের মতো পৃথক দল তৈরি করা হবে, যারা গোলমাল বা অবরোধের মতো ঘটনা ঘটলে সেখানে পৌঁছে ছবি তুলবে। সেই ছবি ব্যবহার করতে পারবেন ডিভিশনের থানাগুলির তদন্তকারীরা।

    লালবাজার সূত্রের খবর, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ভাবে এক জায়গা থেকে চিত্রগ্রাহক ক্যামেরা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, তাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে অনেকটা সময় লাগে। তা ছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় আচমকা বিক্ষোভ, অবরোধ হলে লালবাজার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায় ক্যামেরা দলের। লালবাজারের এক কর্তা জানান, তাই ওই ক্যামেরা দলের বিকেন্দ্রিকরণ করা হচ্ছে। এ বার থেকে ডিভিশনেই থাকবে ক্যামেরা দল। এ জন্য কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে অত্যাধুনিক ক্যামেরা কেনা হচ্ছে, যা দেওয়া হবে ডিভিশনকে। এর ফলে ডিভিশনাল অফিস থেকে দ্রুত ওই দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার রেকর্ডিং করতে পারবে। সেই ছবি বা ফুটেজ ডিভিশনেই সংরক্ষিত করা হবে।

    পুলিশ সূত্রের খবর, এ ছাড়াও কয়েক কোটি টাকা খরচ করে লালবাজার ১০টি ‘ব্যাকপ্যাক’ ইউনিট কিনতে চলেছে। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের কাছে পাঁচটি ‘ব্যাকপ্যাক’ ইউনিট আছে। আরও ১০টি এলে কোথায় তা দেওয়া হবে, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও না হলেও পুলিশ কর্তারা জানান, সেগুলি ডিভিশনকে দেওয়া হতে পারে। ‘ব্যাকপ্যাক’ ইউনিট কী? সূত্রের খবর, আইন-শৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যা হলে সেখানে উপস্থিত পুলিশের চিত্রগ্রাহকের সঙ্গেই থাকে ওই ‘ব্যাকপ্যাক’ ইউনিট। যার মাধ্যমে দূরে বসেই আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলের টাটকা ছবি দেখেন। উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশের মতো রাজ্য পুলিশও ২০টি ‘ব্যাকপ্যাক’ ইউনিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)