দেখতে দেখতে ৭৪ বছরে পা দিয়েছে ‘দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স’। আর এক বছর পরেই প্ল্যাটিনাম জুবিলি। দীর্ঘদিন পর এবার ডোভার লেনে অনুষ্ঠান করবেন পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়। ডোভার লেনে প্রথম অনুষ্ঠানের কথা মনে পড়ে? বুধাদিত্যবাবুর কথায়, ‘১৯৭৯ সালে প্রথমবার এখানে সেতার বাজানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। ভোররাতের অনুষ্ঠান। রাগ গুর্জরি টোড়ি পরিবেশন করেছিলাম। তবলায় ছিলেন পণ্ডিত স্বপন চৌধুরী। সেই অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। এত বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা ভাবনা বদলেছে। এখন মঞ্চে বসলে মনে হয় আমার বাজনার মধ্যে দিয়ে শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূর্ণ হচ্ছে। এর চেয়ে বড় উপহার আর কিছু হয় না।’
সেতার কীভাবে জীবনের ধ্যানজ্ঞান হয়ে উঠল? বুধাদিত্যবাবুর জবাব, ‘আমার জন্ম ভিলাইয়ে। বাবার কাছেই সেতার শিখেছি। খুব বড় শিল্পী ছিলেন। তবে সঙ্গীতকে পেশা করেননি কখনও। পাঁচ বছর বয়সে প্রথম একটি ছোট সেতার পাই। বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা আসতেন। তাঁদের শুনতাম। পাশাপাশি বাবার কাছে তালিম নিতাম। দেখতে দেখতে সেতার কখন যে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল বুঝতেই পারিনি।’ ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন বুধাদিত্য। কলেজে পড়াকালীনই অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘চিরকাল সেতারে ছিলাম। এখনও এটাই আমার সবকিছু।’
সোশ্যাল মিডিয়া আর রিলসের যুগে শ্রোতার ধৈর্য কি কমে যাচ্ছে? বুধাদিত্যবাবুর স্পষ্ট জবাব, ‘শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে ভালবাসলে ধৈর্য থাকতে হবে। উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে বিভ্রান্ত হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও একটা বিকল্প থেকেই যায়। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে হবে।’ ডোভার লেন দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতার মনোরঞ্জন করছে। সে প্রসঙ্গে শিল্পী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে টিকে থাকা সহজ কাজ নয়। ডোভারলেন তা করে দেখিয়েছে। সাত দশক কম সময় নয়। মানুষ ডোভার লেনকে ভালবাসেন।’