বটকেষ্ট মৃত না জীবিত সেটাই ‘মানুষ ভূত’ নাটকের রহস্য। এই রহস্যকে সামনে রেখে মাঙ্গলিক ‘মানুষ ভূত’ উপস্থাপনার পঁয়ত্রিশ বছর অতিক্রান্ত করল। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের কাহিনি অবলম্বনে সমীর বিশ্বাসের পরিচালনায় সম্প্রতি আবার নাটকটির মঞ্চায়ন হল অ্যাকাডেমিতে।
সেদিন মঞ্চ জুড়ে কান্নার রোল। গ্রামের মানুষের জমায়েত হয় হন্নাদের বাড়িতে। বটকেষ্ট শহরের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। শবদেহ গ্রামে আনা অর্থের অপচয় ভেবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে শহরেই। গ্রামবাসীরা জেনেছে বটকেষ্ট আর নেই। সেই মতো হন্নাদের দারিদ্র্যকে হাতিয়ার করে গ্রামের মোড়ল থেকে শুরু করে সব কেষ্ট বিষ্টুরা সব হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটতে শুরু করে। একদিন রাতে বটকেষ্ট ফিরে আসে বাড়িতে! তারপর? রসে বসে ভরপুর নাটকে জীবন মৃত্যুর দোলাচলে নানা ঘটনা ঘটতে থাকে।
বটকেষ্টর চরিত্রে পরিচালক অভিনেতা সমীর বিশ্বাস আজও অনন্য। অভিনয়ের প্রতিটি পদক্ষেপে চরিত্রের স্পন্দন অনুভূত হয়। নাটকে হন্না (উজ্জ্বল বিশ্বাস) এক আকর্ষণীয় চরিত্র। তার অভিনয়ের মধ্যে সহজ সরল বোকা হাবার সব রূপ ধরা দেয়। তার স্ত্রী আলো (সঞ্চয়িতা চক্রবর্তী) সমান ভাবে সঙ্গ দিয়েছে হন্নাকে। নাটকে প্রতিটি চরিত্র নিজ গুণে সপ্রতিভ। মণ্ডলের চরিত্রে দেবাশিস গাঙ্গুলি অসাধারণ। বাবলু সরকার, জয় সেনের আলো ও সুশান্ত অধিকারীর আবহ নাটকের রহস্যকে জাগিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। গৌতম নাথের মঞ্চ ভাবনা প্রশংসার দাবি রাখে।