১৯০১ সালের পরে থেকে ভারতের ইতিহাসে অষ্টম উষ্ণতম বছর ২০২৫। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে দিল্লির আবহাওয়া অফিস মৌসম ভবন। শুধু অষ্টম উষ্ণতম বছরই নয়, চরম আবহাওয়ার কবলে পড়ে মোট ২,৭৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে দপ্তরের তরফে। এর মধ্যে বজ্রপাতেই মৃত্যু হয়েছে ১,৩১৭ জনের।
আবহাওয়া দপ্তরের তরফে, ২০২৬ সালের ফার্স্ট কোয়ার্টার, অর্থাৎ জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের আবহাওয়ার একটি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার। তার পাশাপাশি, IMD-এর ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে স্থলভাগের বাতাসের গড় তাপমাত্রা ১৯০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ের তাপমাত্রার তুলনায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। পাশাপাশি এই বছরে মোট ১১টি ঘূর্ণিঝড় হানা দিয়েছে ভারতে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সাধারণত এক বছরে ৬টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তা স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।
ডিরেক্টর আরও জানিয়েছেন, বিগত ১০০ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালই ছিল উষ্ণতম। গোটা দেশের গড় তাপমাত্রা ০.৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। তবে, এই ঘটনাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না আবহবিদরা। ট্রেন্ড বলছে, ভারতের ইতিহাসের উষ্ণতম বছরগুলি বিগত ১৬ বছরের মধ্যেই রয়েছে। ভারতের ইতিহাসের উষ্ণতম বছরটি ছিল ২০১৬। এই ট্রেন্ড অনুসারে, ভারতের জলবায়ু যে ক্রমেই উষ্ণ হচ্ছে, সেই আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছেন আবহবিদরা।
আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, চরম আবহাওয়ার কারণে এ দেশে ২০২৫ সালে মোট ২,৭৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কোন রাজ্যে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তা জানিয়েছে হাওয়া অফিস:
উত্তরপ্রদেশ: ৪১০
মধ্যপ্রদেশ: ৩৫০
মহারাষ্ট্র: ২৭০
ঝাড়খণ্ড: ২০০
এর মধ্যে ১,৩১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতের কারণে। এ ছাড়াও, প্রবল গরম, বৃষ্টি, হড়পা বান এবং তাপপ্রবাহের কারণেও বহু মানুষ মারা গিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর বৃষ্টিপাত কম হবে গোটা দেশেই। দেশে গড়ে ৮৮ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে। আর, শুধুমাত্র উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রায় ৮৬ শতাংশ বৃষ্টি হবে। এর ফলে, রবি ফসলের উৎপাদনে সমস্যা হতে পারে বলে।
পাশাপাশি, জানুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। একমাত্র মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমির কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।