• ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে তৃণমূল নিজেই আর ভোটে লড়তে চাইবে না: শুভেন্দু
    এই সময় | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • SIR নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। সেই দিকে ইঙ্গিত করে শুক্রবার মালদা থেকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলে দিলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারির পরে ওরা নিজেরাই আর ভোটে লড়তে চাইবে না। বলে দেবে, আমরা আর লড়ব না।’ উল্লেখ্য, ওই দিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। পাল্টা ‘বালখিল্য আচরণ’ বলে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও।

    এ দিন মালদায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার মঞ্চ থেকে আগাগোড়া হিন্দুত্ববাদে শান দিলেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘উত্তর মালদায় কোনও দিন দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। কারণ এখানে সনাতনীরা একজোট। যদি সংখ্যালঘু ১০০টা ভোটের ৯৯টা তৃণমূলে পড়ে, তা হলে কেন সনাতনী, আদিবাসীদের ১০০টা ভোটের ৯৯টা বিজেপিতে পড়বে না? এমনটা ঘটলে বিজেপি ২২০টা আসনে জিতবে।’

    এর পরেই SIR ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দাগেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলে দেন, ‘এ তো সবে শুরু। ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে ওরা নিজেরাই বলবে, আমরা আর ভোটে লড়ব না।’ অযোধ্যায় রাম মন্দির হওয়ার পরে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সেই স্লোগানও এ দিন শোনা যায় শুভেন্দুর মুখে, ‘ইয়ে তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা আভি বাকি হ্যায়।’

    এক সময়ে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গর নাম এক নিঃশ্বাসে উচ্চারণ হতো। অঙ্গ বলতে বর্তমানের বিহারকেই বোঝানো হয়। বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘৫০ কিলোমিটার দূরের বিহারে বিজেপি সরকার হয়েছে। বাকি সবাই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে।’ কলিঙ্গ মানে ওডিশা। সেখানেও বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর কথায়, ‘জয় জগন্নাথ বলে ওডিশার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। আদিবাসী নেতা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।’ এ বার বঙ্গের পালা বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দু বলেন, ‘অঙ্গ আর কলিঙ্গ জেতা হয়ে গিয়েছে। এ বার বঙ্গ জিততে হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে।’

    বাংলায় দুর্গাপুজো, কালীপুজো করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আগেও করেছে বিজেপি। এ দিন নতুন করে সেই অভিযোগ তোলেন শুভেন্দুও। তাঁর কথায়, ‘সনাতনীদের এখন ধর্মপালন করতে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হয়। এ কোন রাজ্যে বাস করছি আমরা?’ বাংলাদেশে দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডকে মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাস খুনের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মাংস কাটার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মেরেছে। মোথাবাড়িতে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জে হিংসা ছড়িয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব হিসেব হবে।’

    তবে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বালখিল্য আচরণ। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই সব বলেন, তখন বোঝা যায়, তিনি রাজনীতিটাকে মস্করার জায়গায় নামিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূলের মতো একটা দল ভোটার তালিকা বেরলে আর ভোটে লড়বে না, এটা তাঁর আশা না কি বোকামি? মানুষ এ সব কথা শুনে হাসে।’

  • Link to this news (এই সময়)