জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: '২১৪ জিতেছিলাম ২০২১ সালে। এবার একটা আসন বাড়বে'। ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরের সভায় বললেন, 'সেটা যেন এই জেলা হয়। ভাঙড় এবার আমাদের জিততে হবে। একটা বুথেও বিজেপিকে গণতান্ত্রিক ভাবে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না'।
নজরে বিধানসভা ভোট। নতুন বছরের শুরু থেকেই অ্যাকশনের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আজ, শুক্রবার থেকে রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেমে তিনি। প্রথম সভা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। অভিষেক বলেন, 'আসলে কোথাও শুভ কাজে বেরোলে বাবা মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বেরোতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, আর এই জেলা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতেই যেন আমার মৃত্যু হয়। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়েই বাংলা জয়ের লক্ষ্যে নামব'।
অভিষেকের কথায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছে। ২০০৮ সালে সিপিএমের শাসনকালেও এই জেলা পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। বলেন, '৩১ এ ৩১ আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে। নেতৃত্ব থেকে কর্মী—সবাইকে বুথে যেতে হবে। বিজেপিকে একটি বুথেও লিড দেওয়া যাবে না'।
'বাংলা বিরোধী' অ্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান অভিষেক। বলেন, 'ভাতে মারতে চেয়েছে বিজেপি সরকার। SIR নিয়ে এসেছে। এর জবাব মানুষই দেবে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লি যাবে। সোনারপুরের রাস্তায় যে জনসমুদ্র,তাতে জ্ঞানেশ কুমার-অমিত শাহ ভেসে যাবেন'। তাঁর দাবি, 'যার নেতৃত্বে বাংলাদেশে হিন্দু নিধন হচ্ছে, তাকে সমর্থন করছে শুভেন্দু অধিকারী। এরা কি হিন্দু দরদী? যারা দিল্লির দালালি করে, তারা কি বাংলার সম্প্রীতি রক্ষা করবে'? সঙ্গে কটাক্ষ, 'বিজেপি নিজেদের কর্মীদেরই রক্ষা করতে পারে না, তারা কীভাবে বাংলার মানুষকে রক্ষা করবে'?
অভিষেকের আরও বক্তব্য, 'দুই দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এসে বলছেন সুনার বাংলা গড়ব। তাহলে সুনার ত্রিপুরা,অসম হচ্ছে না কেন? মধ্যপ্রদেশে জল পরিস্রুত দিতে পারে না। এরা জল, বায়ু দিতে পারে না। বছরে দুই কোটি চাকরি দেবে বলেছিল। ৪১২৩ বিধানসভা গোটা দেশে আছে। সব বিধানসভায় ৫৩ হাজার চাকরি দেওয়ার কথা। মোদী প্রমাণ করুন ৫ হাজার করে চাকরি দিয়েছে। দেখাতে পারলে রাজনীতির আঙিনা ছেড়ে দেব'।
ব্রিগেডের মতো বারুইপুরে অভিষেকে সভায় তৈরি করা হয়েছিল ব়্যাম্প। অভিষেক বলেন, 'আজ র্যাম্প নিয়ে সবার কৌতূহল। এই র্যাম্পে আজ তিন ভূত হাঁটবে। নিয়ে আসুন। এই তিনজনকে দেখে কি মনে হচ্ছে? মেটিয়াবুরুজে দুই দাদা আর বৌদির বাড়ি কাকদ্বীপে। কমিশন এদের দেখতে না পেয়ে মৃত বানিয়েছে। তাই আমি র্যাম্প বানিয়েছি। মৃতদের তো র্যাম্পে দেখা যায় না। তাই আমি বানিয়েছি। আগামীদিন দিল্লি যাবে তৃণমূল। ভ্যানিশ কুমার আর দিল্লির দালালরা তৈরি থাক'।