জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বঙ্গ বিজেপি-র জন্য ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার মালদহের চাঁচলের তপ্ত মাটি থেকে সেই লক্ষ্যকেও অনায়াসে ছাপিয়ে যাওয়ার দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চড়া সুরে তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী নির্বাচনে রাজ্যে ২০০ নয়, অন্তত ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে গেরুয়া শিবির।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক জমি পুনরায় দখলে নিতে মরিয়া সব পক্ষই। এদিন চাঁচলের হাইস্কুল ময়দানের জনসভা থেকে ফের একবার তৃণমূল সরকারকে ‘চোর’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে কড়া তোপ দাগেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, শাসকদলের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। শাহের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে শুভেন্দুর সপাট মন্তব্য, “অমিত শাহজি আমাদের ২০০ আসনের টার্গেট দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলার মানুষের মেজাজ বুঝে আমি বলছি, আমরা ২২০টি আসন পার করব'।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই ‘২২০’-র হুঙ্কার আসলে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নানা কেলেঙ্কারিকে হাতিয়ার করে উত্তরবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া ফেরাতে চাইছেন তিনি। এদিন সভায় মানুষের ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু দাবি করেন, “পিসি-ভাইপোর বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।”
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী দিনের বেলায় আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখছেন। মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নই তাদের প্রধান অস্ত্র। তবে ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসী সুর যে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, 'আগামী এপ্রিল মাসের পর রাজ্যের বিরোধী দল হয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে হিসেব হবে'। পুলিসের একাংশকে হুঁশিয়ারি, 'সব নাম লেখা রয়েছে, সবার হিসেব তোলা রইল'।
এর আগে, গত মঙ্গলবারই বঙ্গ সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতা সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেন তিনি। বস্তুত, ছাব্বিশে নির্বাচনে অনুপ্রবেশই যে বিজেপির মূল হাতিয়ার হবে, তাও স্পষ্ট করে দেন। সায়েন্স সিটিতে কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) ও যাদবপুরে দলের কর্মীদের সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেন শাহ।
ছাব্বিশে ভোটের ২০০ আসনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে কর্মীদের মাঠের নামার নির্দেশ দেন শাহ। বলেন, 'আমরা যদি ৩ আসন থেকে ৭৭ আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে (200 Seats) পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে'? তাঁর দাবি, 'কলকাতা আর নিরাপদ নেই। অনুপ্রবেশের দাপট আরও বাড়বে। তখন সাধারণ মানুষই বিপদে পড়বেন। এই অবস্থা থেকে বেরোতে হলে গোড়া থেকে এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে হবে'।