অয়ন শর্মা: মতানৈক্য ও 'অস্বচ্ছতা'র অভিযোগে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো। সরে দাঁড়িয়েছেন অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়া জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে। আর তারপরই নয়া মাত্রা নিয়েছে অভয়া আন্দোলন। অনিকেত মাহাতো জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দিতেই পালটা তোপ দেগেছেন অভয়া আন্দোলনের আরেক মুখ আসফাকুল্লা নাইয়া।
আসফাকুল্লা নাইয়ার কথায়, 'অনিকেত একা নেতা হতে পারে না। বাকিরা তো রয়েছে, তারাও লড়াই করেছে অভয়ার ন্যায় বিচারে। তার একটা অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে। সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। আর বাইরে থেকে শাসক রাজনৈতিক দলের পরোক্ষ প্রভাব থাকতে পারে। যেটা শুরু থেকেই ছিল।' একদিকে আসফাকুল্লা নাইয়া যখন স্পষ্ট বলছেন, 'অনিকেত একা নেতা হতে পারে না।' তখন ইস্তফা পত্রে অনিকেত কিন্তু আবার তোপ দেগেছেন, 'আন্দোলনের অভিমুখ বদলে যাচ্ছে এবং সংগঠনের ভেতরে একনায়কতন্ত্র জেঁকে বসেছে।' অর্থাৎ অনিকেত অভয়া আন্দোলনের সত্যতা নিয়েই যেন প্রশ্ন তুলেছেন!
এদিকে বৃহস্পতিবার জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এদিন অনিকেত মাহাতো ফের বলেছেন, 'ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। তাদের প্রতি আমার কোনও ক্ষোভ নেই। এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করছি না। তবে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব থাকবে।' বলাই বাহুল্য যে অনিকেতের ইস্তফা আরজি কর আন্দোলনে বড় ধাক্কা! অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবি, আন্দোলন তথা আরজি কর কাণ্ডে 'বিদ্রোহের মুখ' ছিলেন অনিকেত মাহাতো। সরকারকে তাদের দাবি মানাতে অনশন পর্যন্ত করেছিলেন অনিকেত মাহাতো।
আরজি কর আন্দোলনের প্রথম সারির মুখ হওয়ায় অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়া সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন বলেA অভিযোগ। অভিযোগ, প্রতিহিংসামূলকভাবে তাঁদের দূরে পোস্টিং দেওয়া হয়। এখন সেই পোস্টিংয়ে বাকি দুজন জয়েন করে গেলেও অনিকেত মাহাতো জয়েন করেননি। তিনি আরজি করেই পোস্টিং চেয়ে প্রথমে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, দুই জায়গাতেই জয়ী হন অনিকেত।
শীর্ষ আদালত তাঁকে ২ সপ্তাহের মধ্যে জয়েনিং দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখনও সেই জয়েনিং তিনি পাননি বলে অভিযোগ অনিকেত মাহাতোর। এই অবস্থায় ‘অভয়া’র ন্যায়বিচারের প্রশ্নে অনাস্থা জানিয়ে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট ছাড়লেন অনিকেত মাহাতো। বলাই বাহুল্য যে, এই ঘটনা আরজি কর আন্দোলনে ফাটল!ট্রাস্টকে লেখা এক দীর্ঘ চিঠিতে অনিকেত সংগঠনের বর্তমান কার্যপদ্ধতিকে 'অগণতান্ত্রিক' বলে তোপ দেগেছেন।
প্রসঙ্গত অনিকেতের অভিযোগ, এগজিকিউটিভ কমিটি নিয়ে। তাঁর মতে, সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে যেভাবে ৩৭ সদস্যের কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তা আদতে আন্দোলনের মূল আদর্শের পরিপন্থী। উল্লেখ্য, আরজি করের ঘটনার পর আইনি লড়াই চালানোর জন্য জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘অভয়া তহবিল’ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এই তহবিলের অর্থের ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল। এবার অনিকেতের ইস্তফা বিতর্কে নয়া মাত্রা যোগ করল।