সংখ্যালঘু এলাকার তুলনায় বিজেপির ‘দুর্গে’ বেশি নাম বাদ! SIR চাপে যোগী, ফের পিছোল ডেডলাইন
প্রতিদিন | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধীদের চাপে ফেলতে গিয়ে SIR-এ কি পালটা চাপে পড়ে গেল বিজেপিই? অন্তত উত্তরপ্রদেশ নিয়ে গেরুয়া শিবির বেশ চিন্তায়। আসলে যোগীরাজ্যে SIR-এর প্রাথমিক পর্যায়েই ১৮ শতাংশ নাম বাদ পড়তে চলেছে বলে খবর। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করার ডেডলাইন তিনবার পিছিয়ে দিতে হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত যা হিসাব তাতে বিজেপির গড় হিসাবে পরিচিত এলাকাগুলিতে বেশি নাম বাদ পড়ছে। তুলনায় অনেক কম নাম কাটা পড়ছে সংখ্যালঘু এলাকায়।
একযোগে মোট ১২টি রাজ্যে SIR শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রায় প্রতিটি রাজ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়ে গেলেও উত্তরপ্রদেশে এখনও হয়নি। এর আগে দু’বার ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। একেবারে বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। নতুন ডেডলাইন ৬ ডিসেম্বর। সেদিন তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এখনও পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ার যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে সেটা রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার মতো। হিসাব বলছে, মোট সাড়ে ১৫ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ভোটার বাদ পড়তে চলেছেন।
যোগীরাজ্যে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটার। অর্থাৎ এই সংখ্যার ভোটার বাদ যাবেনই। পরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত, ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত, ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটার ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট, ৮৩ লক্ষ ভোটার নিখোঁজ এবং ৯ লক্ষের সামান্য অধিক। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার যদি বাদ পড়ে যান তাহলে সেটা বিজেপির জন্যই অস্বস্তিকর। খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগেই মেনে নিয়েছেন, যে ভোটারদের নাম বাদ পড়তে চলেছে তাদের বেশিরভাগটাই বিজেপির। এমনকী এত নাম যাতে বাদ না যায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশও দেন তিনি। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলে ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যাটা সেইসব এলাকায় বেশি যেগুলি তথাকথিত বিজেপির গড় হিসাবে পরিচিত। এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ার নিরিখে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়তে পারে লখনউয়ে (৩০ শতাংশ)। এরপর আছে গাজিয়াবাদ, কানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মেরঠ, প্রয়াগরাজ, আগ্রা। এই সবকটি জেলা বিজেপির দুর্গ হিসাবে পরিচিত। অন্যদিকে যে সব জেলায় মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি সেগুলিতে নাম বাদের পরিমাণ অনেক কম। মোরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, মুজফফরপুর, বিজনৌরের মতো জেলায় ভোটারের নাম বাদ পড়ার সংখ্যাটা ১৫-১৮ শতাংশের মধ্যে। এই তথ্য বিজেপির জন্য রীতিমতো উদ্বেগের। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৬০ হাজার করে ভোট কমছে বিজেপির। যা ভোট বাদ পড়ছে। সেটার বেশিরভাগই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের পকেট ভোট।”