আন্দোলনে নড়ল টনক, ১০০ দিনের কাজের ধাঁচেই ‘গিগ ওয়ার্কার’দের জন্য নয়া প্রকল্প কেন্দ্রের!
প্রতিদিন | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রবল আন্দোলনের চাপে অবশেষে টনক নড়ল কেন্দ্রের। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গিগ ওয়ার্কারদের জন্য ১০০ দিনের কাজের ধাঁচে নয়া প্রকল্প শুরু করতে চলেছে মোদি সরকার। নয়া প্রকল্পে ‘গিগ ওয়ার্কার’ ও প্ল্যার্টফর্ম ওয়ার্কারদের আধার রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল আইডেন্টি কার্ড ও সোশাল সিকিউরিটি কোড নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত ডেলিভারি পার্টনার, ক্যাব ড্রাইভার, ফ্রিল্যান্সার ও অ্যাপ নির্ভর কর্মীদের জন্য বিরাট পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্যে কেন্দ্রের তরফে নয়া খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। যেখানে ন্যূনতম ১৬ বছর হয়েছে এমন গিগ কর্মীদের কেন্দ্রীয় সরকার-নির্ধারিত পোর্টালে আধার ও অন্যান্য নথি আপলোড করে যুক্ত হতে হবে। এই সংক্রান্ত পোর্টালগুলি নিজেদের গিগ ওয়ার্কারদের বিবরণ কেন্দ্রীয় পোর্টালকে দেবে। এর ভিত্তিতে প্রতিটি কর্মীকে দেওয়া হবে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN)। প্রতিটি গিগ ওয়ার্কারকে ছবি-সহ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এই ডিজিটাল কার্ড সরকারি পোর্টাল থেকেও ডাউনলোড করা যাবে।
এই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মীদের যে কোনও অ্যাপ নির্ভর কোনও একটি সংস্থার সঙ্গে কমপক্ষে ৯০ দিন এবং একাধিক সংস্থার সঙ্গে কমপক্ষে ১২০ দিন কাজ করতে হবে। সময়কাল নির্ধারিত হবে পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের উপর ভিত্তি করে। কর্মীরা দিনে যতই আয় করুন না কেন, দিনের হিসেবেই ধরা হবে কাজের সময়কাল। শুধু তাই নয়, অ্যাপ নির্ভর সংস্থাগুলিকে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ কর্মী নিয়োগ করতে হবে। কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) সুবিধাও দেওয়া হবে। থাকবে আলাদা অ্যাকাউন্ট। এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বোর্ডে পর্যায়ক্রমে পাঁচজন গিগ কর্মীকে মনোনীত করবে, যারা বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করবে। ৬০ বছরের উর্ধ্বের কর্মীদের এক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন আমাজন, সুইগি, জোমাটো, জেপ্টো, ফ্লিপকার্ট, ব্লিঙ্কিটের মতো ডেলিভারি অ্যাপের কর্মীরা। কম মজুরি, ‘কুইক সার্ভিস’, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, নিরাপত্তাহীন কাজের পরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষার অভাবের মতো বিষয় তুলে ধরে আন্দোলনে নামেন কর্মীরা। গিগ অর্থনীতির পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকায় প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগুলির ওপর চাপ বাড়াতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি ছিল, কারণ না দর্শিয়ে ছাঁটাই করা যাবে না। কর্মীদের পিএফ ও বিমার সুবিধা দিতে হবে। কাজের পরিবেশ উন্নত করতে হবে। এই সমস্ত দাবিকে মান্যতা দিয়ে এবার পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার।