• দুই পা ভাঙা, স্বামী-সন্তানের কাঁধে চেপে SIR শুনানি কেন্দ্রে, ‘চূড়ান্ত হয়রানি’র শিকার মহিলা!
    প্রতিদিন | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজ কুমার, আলিপুরদুয়ার: সিড়ি থেকে পড়ে ভেঙেছে দুই পা! হাঁটাচলা করতে বারণ করেছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এসআইআর শুনানি বড় বালাই! সশরীরে হাজির থাকতেই হবেই। অগত্যা ওই অবস্থাতেই স্বামী ও সন্তানদের কাঁধে চেপে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলেন আলিপুরদুয়ারে শিখা ভৌমিক। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি দেশের বৈধ্য নাগরিক সেই তথ্য কি বাবুদের কাছে নেই? আমি চূড়ান্ত হয়রানির শিকার।”

    আলিপুরদুয়ার বিধানসভার ২১৫ নম্বর বুথের ভোটার শিখা ভৌমিক। শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আগে থাকতেন শোভাগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। বিএলও শুনানির নোটিস যায়। শুক্রবার তাঁর শুনানির দিন জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভাঙা পায়ে যাবেন কী করে? গাড়ি ভাড়া করে পরিবার। দুই ভাঙা পা নিয়ে বড় গাড়ি ভাড়া করে আলিপুরদুয়ার শহরের ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শুনানি কেন্দ্রে এসে পৌঁছন তিনি। কিন্তু শুনানি কেন্দ্রের ভিতরে কী করে গাড়ি ঢুকবে? ফলে বাধ্য হয়ে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা শুনানি কেন্দ্রের বাইরেই এসে শিখা দেবীর শুনানি সম্পন্ন করেছেন।

    কেন ২০০২ তালিকায় নাম নেই শিখাদেবীর। তাঁর স্বামী সন্দীপ ভৌমিক বলেন, “আমরা আগে শোভাগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায় থাকতাম। সেখানে ভোট দিয়েছি। কিন্তু সেখানকার ২০০২-এর  তালিকায় নাম খুঁজে পাইনি। ১৯৯৫ সালের ভোটার কার্ড আছে। ২০০২ সালের আগে নামও রয়েছে। তবুও আমাদের হেয়ারিংয়ে ডেকেছে। আমার স্ত্রী, আমাকে ও ছেলেকে তিনজনকেই শুনানিতে ডেকেছে। আমার স্ত্রীর পা ভেঙে যাওয়ায় গাড়ি ভাড়া করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হয়েছে। আমরা আতঙ্কিত।”

    শুনানির পর শিখাদেবী বলেন, “এভাবে আমাকে এখানে টেনে আনল ওঁরা। ওঁদের কাছে কী কাগজপত্র নেই! আমরা এদেশের নাগরিক কিনা, তা কি ওঁরা জানতে পারে না? আমাকে দুই পা ভাঙা নিয়ে এখানে এসে কাগজ জমা দিতে হল। আমি চূড়ান্ত হয়রানির স্বীকার হলাম।” তৃণমূল কংগ্রেসের টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্যোপাধ্যায় বলেন, “এগুলো আর চোখে সহ্য করা যাচ্ছে না। দুই পা ভাঙা মহিলাকেও এরা শুনানি কেন্দ্রে টেনে এনেছেন। এসআইআরের নামে বাঙালিদের হয়রানি করা হচ্ছে।এদের বাড়িতে হেয়ারিংকরা উচিত ছিল।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)