রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: বছর দুয়েক আগে মুরলীধর সেন লেনের বিজেপির কার্যালয় থেকে ‘ঘরছাড়া’ হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। খুলে নেওয়া হয়েছিল এসি-টিভি। সময় বদলেছে। শাহী বৈঠকের পরই ফের স্বমহিমায় ধরা দিলেন দিলীপ। মুরলীধরে ‘ভিটেহারা’ দিলীপ সল্টলেকের কার্যালয়ে পেলেন নিজের ঘর।
হাতে আর কয়েকমাস। ছাব্বিশের আগে দিলীপ ক্যারিশ্মা উপেক্ষা করলে যে আদতে দলের ক্ষতি, চব্বিশের ভরাডুবি দেখেই তা বুঝে গিয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও। সেই কারণেই আসরে নেমে দিলীপের মানভঞ্জন করেছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের দ্বন্দ্বের জেরে ছাব্বিশে কোনও ভরাডুবি বরদাস্ত করা হবে না। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন করতে একসঙ্গেই লড়তে হবে। এদিকে শাহী বার্তা পেয়ে ফের চাঙ্গা দিলীপ। সাফ জানিয়েছেন, দলের জন্য তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। সক্রিয় তো হলেন, কিন্তু কোন দায়িত্ব পাবেন একটা সময়ে গোটা রাজ্য সামলানো দিলীপ? শোনা যাচ্ছিল, রাজ্যে বিজেপির ৫টি জোনের একটির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে দিলীপকে।
কিন্তু সেখানও তো সমস্যা! দীর্ঘদিন দিলীপ ঘোষ সংগঠন থেকে দূরে সরে থাকায় তাঁর অনুরাগীরাও মাঠ ছেড়েছিলেন। তিনি ফিরতেই সেই কর্মীরা আবার ময়দানে নামবেন বলে নিশ্চিত দল। দীর্ঘদিন রাজ্য সভাপতি পদে থাকা সেই দিলীপকে একটা জোনের দায়িত্ব দেওয়া হলে মন ভাঙতে পারে অনুগামীদের। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটবাক্সে। তাই এবিষয়ে ভীষণভাবে সচেতন দল। শোনা যাচ্ছে, বিজেপির রাজ্য কমিটিতে বড়সড় দায়িত্ব পেতে পারেন দিলীপ। যদিও পুরোটাই এখনও ধোঁয়াশা। তবে শুধু সল্টলেক কার্যালয়ে ঘর দেওয়া, বা রাজ্য কমিটির পদই নয়, দিলীপকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে ছাব্বিশের প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মশিবির। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন মোদি-শাহের সভায় ডাক না পাওয়া দিলীপ এবার ফের পুরনো ফর্মে খেলবেন মঞ্চে। মঞ্চ থেকে ভোকাল টনিক দেবেন কর্মী-সমর্থকদের। ছাব্বিশের ভোটে এর প্রভাব যে কিছুটা হলেও য়ে পড়বে সেবিষয়ে নিশ্চিত শীর্ষ নেতারা।