আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত পণ্যের উপরে নতুন করে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (Excise Duty) চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ধূমপানে রাশ টানতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সিগারেট-বিড়ি-গুটখা-জর্দার দাম বাড়া নিয়ে শুধু তামাকের নেশা করেন যাঁরা, তাঁরাই চিন্তিত নন। চিন্তিত তামাক চাষিরাও। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করল ‘ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ফার্মার অ্যাসোসিয়েশন’ বা FAIFA।
সংগঠনের দাবি এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের তামাক চাষিরা প্রবল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গনা, কর্নাটক এবং গুজরাটের হাজার হাজার তামাক চাষির প্রতিনিধি হিসেবে FAIFA জানিয়েছে, এর আগে সরকার Revenue-neutral বা ‘রাজস্ব-নিরপেক্ষ’ কর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তামাকজাত পণ্যের উপরে শুল্ক চাপানোর এই নয়া সিদ্ধান্ত সেই প্রতিশ্রুতির বিরোধী।
সেই সঙ্গে বাজারে চোরাকারবার বা অবৈধ বাণিজ্যের দাপট আরও বাড়বে। FAIFA-র মতে, এমনিতেই ভারতীয় বাজার অবৈধ তামাকজাত পণ্যে ছেয়ে গিয়েছে। এর উপরে করের বোঝা বাড়লে বৈধ পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে ক্রেতারা আরও বেশি করে সস্তা ও অবৈধ পণ্যের দিকে ঝুঁকবেন। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্বে টান পড়বে। অন্যদিকে চাষিদের আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।
গত মাসেই কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিছিল, ‘চিউইং টোব্যাকো’, জর্দা এবং গুটখার ক্ষেত্রে প্যাকিং মেশিনের ক্ষমতার উপরে ভিত্তি করে এই শুল্কের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে। আর সিগারেটের ক্ষেত্রে স্টিকের দৈর্ঘ্যের উপরে নির্ভর করে ১,০০০ স্টিক প্রতি ২,০৫০ টাকা থেকে ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
এতে এই তামাকজাত পণ্যগুলির দাম এক লাফে অনেকটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা চলছে ১৮ টাকা মূল্যের সিগারেটের দাম নাকি ৭২ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। সরকারের দাবি, এতে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। তবে তামাক চাষিদের এই সতর্কতা অন্য কথাই বলছে।