সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জেলবন্দি উমর খালিদের মুক্তির দাবিতে চিঠি লিখেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি-সহ ৮ জন মার্কিন সাংসদ। এই ঘটনার নেপথ্যে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর ‘ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিজেপি। শাসকদলের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনার সূত্রপাত আমেরিকা থেকেই। এবং এর জন্য দায়ী খোদ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
মামদানি-সহ যে ৮ জন মার্কিন জনপ্রতিনিধি আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কোত্রাকে চিঠি লিখেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম জ্যানিস শাকাওস্কি ও ইলহান ওমর। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর ছবি তুলে ধরে শুক্রবার সরব হয়েছে বিজেপি। সোশাল মিডিয়ায় সেই ছবি তুলে ধরে বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী লেখেন, ‘বিদেশে যখনই ভারত বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়, পিছনে একটাই নাম ঘুরে ফিরে আসে, তিনি রাহুল গান্ধী।’ ভান্ডারির অভিযোগ, ২০২৪ সালে রাহুলের আমেরিকা সফরে শাকাওস্কি ও ইলহানের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই তৎপরতা শুরু হয়েছিল। উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিরে ‘কমব্যাটিং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামোফোবিয়া অ্যাক্ট’ আনেন শাকাওস্কি। যেখানে ভারতে মুসলিমদের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলা হয়। বিজেপির অভিযোগ, ২০২৪ সালে সাক্ষাৎ, ২০২৫ সালের ওই বিল পেশ এবং ২০২৬ সালে সেই একই সাংসদের তরফে ভারত সরকারকে লেখা চিঠিতে উমর খালেদের মুক্তির দাবি কোনও কাকতালিয় বিষয় নয়।
সম্প্রতি, জেলবন্দি ছাত্রনেতা উমর খালিদের উদ্দেশে নিজের হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন মামদানি। সেখানে তাঁর বার্তা, ‘আমরা সকলেই তোমার কথা খুব ভাবি।’ ওই চিঠি সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন উমরের সঙ্গিনী। এরপরই জানা যায় খালিদের সমর্থনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কোত্রাকে চিঠি লিখেছেন শাকাওস্কি-সহ আরও ৭ জন জনপ্রতিনিধি। মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের কথায়, ‘পাঁচবছর ধরে উমর খালিদ জেলে বন্দি রয়েছেন। ভারতের উচিত যুক্তিযুক্ত সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা এবং দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া।’ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপির মতে এই গোটা ঘটনা রাহুল গান্ধীর সুপরিকল্পিত ভারত বিরোধী প্রচারের অংশ। এর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর আন্তর্জাতিক সফর ও বৈঠকের যোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় উমর খালিদ, শারজিল ইমাম-সহ অনেকেই এখনও জেলবন্দি। পাঁচ বছর কেটে গেলেও জামিন মেলেনি তাঁদের। ইউএপিএ ধারায় মামলা চলছে তাঁদের বিরুদ্ধে। জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়েছে। দিনকয়েক আগে অবশ্য বোনের বিয়ে উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছিলেন উমর। ২৯ ডিসেম্বর আবারও জেলে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।