নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে রাজ্যে নির্বাচনী আবহে রেলকে এবার মধ্যবিত্তের পরিবহণ প্রমাণ করতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের পর ভোটমুখী রাজ্য বাংলায় রেলের নজর অমৃত ভারত ট্রেনে। ইতিমধ্যেই বাংলার দু’টি রুটে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। সেই দু’টি হল মালদহ টাউন থেকে বেঙ্গালুরু এবং মালদহ টাউন থেকে লখনউয়ের গোমতী নগর। অমৃত ভারত ট্রেনের সম্ভাব্য রুটে তাই এখন দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলকেই গুরুত্ব দিচ্ছে রেল বোর্ড। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শীঘ্রই আরও দু’টি নতুন রুটে অমৃত ভারত ট্রেন পাচ্ছে বাংলা। চলতি মাসেই এসংক্রান্ত ঘোষণা করবে কেন্দ্রের মোদি সরকার।
বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রধানত সেমি-হাইস্পিড বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উপরই মূল গুরুত্ব দিচ্ছে রেল। অন্যান্য দূরপাল্লার চেয়ার-কার যুক্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় এর ভাড়া স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি। বৃহস্পতিবারই হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ঘোষণাও করেছে রেল। এর ভাড়াও সংশ্লিষ্ট রুটের অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় অন্তত ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা বেশি হতে চলেছে। ফলে সঙ্গত কারণেই সাধারণ যাত্রীদের বড় অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, রেল শুধুমাত্রই উচ্চবিত্তের কথা চিন্তা করছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধারণা পরিবর্তন করতেই উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এবং সেই কারণেই বন্দে ভারতের পাশাপাশি ভোটের বাংলায় এবার জোর দেওয়া হচ্ছে তুলনায় কম ভাড়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের উপর।
প্রসঙ্গত, অমৃত ভারত ট্রেনের পুরোটাই নন-এসি স্লিপার। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর এর উদ্বোধনের সময়ই রেলমন্ত্রক ঘোষণা করেছিল, সমাজের সর্বস্তরের কথা মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই ট্রেন চালু করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মালদহ টাউন-বেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রীভাড়া মাথাপিছু ৯৯৫ টাকা। অন্যদিকে, মালদহ টাউন-গোমতী নগর (লখনউ) অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রীভাড়া মাথাপিছু ৫৬০ টাকা। রেল সূত্রের দাবি, উদ্বোধনের পর থেকে দু’বছরে উল্লিখিত দু’টি রুটে যাত্রী চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দু’বছরে সারা দেশে মোট ১৫টি রুটে চলাচল করছে অমৃত ভারত ট্রেন। বন্দে ভারতের রুট এর থেকে প্রায় ১০ গুণ বেশি। ফলে ভোট আবহে দু’য়ের মধ্যে ‘সামঞ্জস্য’ খুঁজতে মরিয়া হয়েছে কেন্দ্র।