নয়াদিল্লি: প্রতিবেশী খারাপ হলে দেশবাসীকে রক্ষা করার অধিকার রয়েছে ভারতেরও। সম্প্রতি আইআইটি মাদ্রাজের এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যে প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদত জোগায়, তারা ভারতের কাছে জল ভাগের দাবি করতে পারে না। সরাসরি নাম না করলেও, বিদেশমন্ত্রী যে পাকিস্তানকেই নিশানা করেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
জয়শঙ্করের কথায়, ‘ভারতের উন্নতি সকলের জন্য ইতিবাচক। অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশ বোঝে যে, ভারত এগোলে তারাও এগোবে।’ তবে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে তাঁর কটাক্ষ, ‘যারা ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের রুখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে ভারত।’ সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিকে আপনি আমাদের দেশে সন্ত্রাস ছড়াবেন, অন্যদিকে আমাদের কাছে জল ভাগ চাইবেন—এটা চলতে পারে না।’ জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভালো প্রতিবেশীদের’ সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভালো প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে ভারত বিনিয়োগ করে, সাহায্য করে ও সম্পদ ভাগ করে নেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, কোভিডের সময় টিকা সরবরাহ, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জ্বালানি ও খাদ্য সহায়তা বা শ্রীলঙ্কার আর্থিক সংকটে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার কথা। তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ও উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে নিয়মিত যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই অন্য দেশ ভারতকে সম্মান করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস গর্ব করার মতো। খুব কম প্রাচীন সভ্যতাই আধুনিক শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পেরেছে, ভারত তাদের অন্যতম।’ দু’দিন আগেই যে তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঢাকা গিয়েছিলেন, সেকথাও জানাতে ভোলেননি জয়শঙ্কর।
এদিন ‘আইআইটিএম গ্লোবাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর সূচনা করেন তিনি। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর দর্শন অনুসরণ করেই ভারত আজ তার কূটনীতি পরিচালনা করছে, যেখানে সীমিত সম্পদের মধ্যেও সর্বোচ্চ প্রভাব তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।