হিমাচলে সরকারি কলেজে র্যাগিং ও যৌন নির্যাতনের জেরে মৃত্যু তরুণীর
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
ধর্মশালা: র্যাগিং ও যৌন নির্যাতনের জেরে ছাত্রী মৃত্যুর অভিযোগ এবার হিমাচল প্রদেশে। নির্যাতিতা ধর্মশালার সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। তাঁর মৃত্যু ঘটনায় অভিযোগের তির সরকারি কলেজের এক অধ্যাপক ও তিন সহপাঠীর দিকে। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিয়োতে নিজের সঙ্গে হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা দিয়েছেন ওই ছাত্রী। তরুণীর অভিযোগ, কলেজে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন অভিযুক্ত অধ্যাপক। মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হত।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর হর্ষিতা, আকৃতি ও কমলিকা নামের তিন সহপাঠী র্যাগিং করে ওই করে তরুণীকে। এর জেরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভিযুক্ত অধ্যাপক অশোক কুমারের অশালীন আচরণ ও মানসিক অত্যাচারেই নির্যাতিতার শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পুলিশের দ্বারস্থ হতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা। শেষ পর্যন্ত ২০ ডিসেম্বর তরুণীর বয়ানের ভিডিয়ো রেকর্ডিং সহযোগে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভিডিয়োতে ওই তরুণীকে অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করে বলতে শোনা যায়, ‘অশোক স্যার আমার সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন। আমার পিছনে পড়ে থাকতেন।’ পাশাপাশি ইঙ্গিতে যৌন হেনস্তার বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে তরুণী বলেন, ‘অনেক কিছু বলতেন।’ নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, গত ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েও মেয়েকে বাঁচানো যায়নি।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। র্যাগিংয়ের অভিযোগ মামলা হয়েছে সহপাঠীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ রাকেশ পাঠানিয়া। যদিও তাঁর দাবি, র্যাগিংয়ের বিষয়ে কোনও অভিযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ের করা হয়নি। ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের বিষয়ে তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলেন। তিনি আরও বলেছেন, প্রথম বর্ষে পাশ না করায় ওই তরুণীকে দ্বিতীয় বর্ষে ভরতি নেওয়া হচ্ছিল না। সেই কারণে হীনমন্যতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৯ জুলাই থেকে কোনও ক্লাসেই অংশ নেননি।