• জলে আতঙ্ক ইন্দোরের! ট্যাঙ্কারে পাঠানো পানীয়তেও নেই ভরসা
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • ইন্দোর:  পাঁচ মাসের সন্তানকে গোরুর দুধের সঙ্গে জল মিশিয়ে খাওয়ানোর কথা বলেছিলেন সুনীল সাহু। কিন্তু তা যে মৃত্যু ডেকে আনবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তিনি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকের ছায়া সাহু পরিবারের। তবে শুধু একটি পরিবার নয়, দেশের ‘পরিচ্ছন্নতম শহর’ ইন্দোরের ঘরে ঘরে এখন একই ছবি। দূষিত জল পান করে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫ জনের। অসুস্থ আরও ১৪০০। পানীয় জল নিয়ে আতঙ্ক এতটাই যে ট্যাঙ্কারে পাঠানো জলেও ভরসা করতে পারছেন না ভগীরথপুরার বাসিন্দারা। 

    স্থানীয় বাসিন্দা গব্বল লস্করি বলেছেন, ‘আমরা বেশ কয়েকদিন ধরে দূষিত জলের বিষয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ করছিলাম। কিন্তু কেউ পদক্ষেপ নেয়নি। আমার ১৫ বছর বয়সি সন্তান হাসপাতালে ভর্তি। আমার বৃদ্ধ মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এখন ট্যাঙ্কার করে পানীয় জল পাঠাচ্ছে প্রশাসন। তবে আমরা তাকে ভরসা করতে পারছি না। জল কিনে খাচ্ছি।’ স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর কমল ওয়াঘেলাও স্বীকার করে নিয়েছেন, নর্মদা ওয়াটার সাপ্লাইয়ের পানীয় জল নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও ভয় ও সংশয় রয়েছে। মানুষের ভীতি কাটতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। গোটা ঘটনায় পুরসভার একাংশের উপরেই দায় চাপিয়েছেন ওই কাউন্সিলর। প্রশ্ন তুলেছেন, কেন টেন্ডার হয়ে যাওয়ার ছ’ মাস পরেও কাজ শুরু হয়নি? 

    ইন্দোরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পিছনে যে দূষিত জলই দায়ী, তা স্বীকার করে নিয়েছেন আধিকারিকরা। সিএমওএইচ (চিফ মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার) ডাঃ মাধব প্রসাদ হাসানি জানিয়েছেন, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের করা পরীক্ষায় ওই এলাকায় জলদূষণের প্রমাণ মিলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘পানীয় জলে এমন ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে, যা সাধারণত নিকাশির জলে থাকে।’ অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে জানিয়েছেন, কোন কোন স্থান থেকে দূষিত জল পানীয় জলে মিশেছে তা চিহ্নিত করবার কাজ চলছে। 

    ইন্দোরের এই মৃত্যুমিছিলের ঘটনায় রাজ্য সরকারে বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। তার অভিযোগ, ‘ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা’ শহরের মানুষকে নূন্যতম পানীয় জলও পৌঁছে দিতে পারেননি। অথচ তারা ‘নামী সংস্থার পরিশুদ্ধ জল খাচ্ছেন’। উমার দাবি, ‘হয় অভিযুক্তরা প্রায়শ্চিত্ত করুক, নতুবা কঠোর দণ্ড দেওয়া হোক’। 
  • Link to this news (বর্তমান)