সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: শুক্রবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ময়নাগুড়ি পুরাতন বাজারে। ভস্মীভূত হয়ে যায় ১১টি দোকান। বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা অবস্থা ব্যবসায়ীদের। ময়নাগুড়ি থানা থেকেই প্রথম খবর যায় দমকল কেন্দ্রে। দ্রুত ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছনোয় আরও বেশি ক্ষতি আটকানো গিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এদিন পুরাতন বাজারে বেচা-কেনা বন্ধ রাখেন দোকানিরা।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলির মধ্যে রয়েছে মিষ্টি, ব্যাগ, কাপড় ও স্টেশনারি দোকান। ময়নাগুড়ি থানার এক নিরাপত্তাকর্মী প্রথম আগুন দেখতে পান। এরপর তিনি থানার ভিতরে খবর পাঠান। থানা থেকেই দমকল কেন্দ্রে ফোন করা হয়। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দীর্ঘদিন ধরে ময়নাগুড়ি বাজারের অলিগলিতে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছেন কিছু ব্যবসায়ী। ময়নাগুড়ি পুরসভা ও ব্যবসায়ী সমিতি এমনকী ময়নাগুড়ি থানার অফিসাররা বাজার ঘুরে অতীতে বহুবার ব্যবসায়ীদের বুঝিয়েছিলেন। অভিযোগ,এরপরও হুঁশ ফিরেনি ব্যবসায়ীদের একাংশের। এদিন আগুন নেভার পর ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রশাসনিক কর্তারা। সেখানে ছিলেন বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, পুরসভার চেয়ারম্যান মনোজ রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ঝুলন সান্যাল, থানার আইসি সুবল ঘোষ সহ অন্যরা। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মহুয়া গোপ।
এদিনের বৈঠকে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁরা যেন দোকানের ভিতর থেকে পসরা বাইরে না বের করেন। পলিথিন টাঙানো যাবে না। বাড়তি শেড খুলে নিতে হবে। ময়নাগুড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুমিত সাহা বলেন, কোটি টাকার মালপত্রের ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। মিটিংয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা কার্যকর করতে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। রাতে এই আগুন লাগলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করত। মহুয়া গোপ বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে তারজন্য ব্যবসায়ীদেরই সচেতন হতে হবে। আগুন নেভাতে আসা দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, সম্ভবত শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র