১৬ জানুয়ারি মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর: গৌতম
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: তিন মাস আগে মহাকাল মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করে ‘মাস্টার স্ট্রোক’ হাঁকান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের শুরুতেই তিনি প্রকল্পটির নির্মাণ কাজে হাত দিয়ে চমক দিতে চান। এজন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জমি পরিশর্দনের পর একথা বলেন মেয়র গৌতম দেব। একই সঙ্গে তিনি জানান, শুধু শিলিগুড়ি নয়, ওই মন্দির গোটা দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রকল্পটি জোড়াফুল শিবিরকে বাড়তি ডিভিডেন্ট দেবে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। এনিয়েই স্থানীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
মহকাল মন্দিরের জমি ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই জমির একাংশে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এবার সেখানে মন্দিরের শিলান্যাস করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এদিন সংশ্লিষ্ট জমি পরিদর্শন করেন গৌতম দেব। তাঁর সঙ্গে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র, শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার, পুলিশ এবং বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির আধিকারিকরা ছিলেন।
পরে মেয়র বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ওই মন্দির এখানে তৈরি হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১৬ জানুয়ারি মন্দিরের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই এদিন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে জমি পরিদর্শন করলাম।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর প্রবল বর্ষণ ও ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় দার্জিলিং পাহাড়ের। ওই সময় বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির গড়ার কথা ঘোষণা করেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এসজেডিএ’র জমিও জোগাড় করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রকল্প নিয়ে বামফ্রন্টের একাংশ আপত্তি করলেও মুখ্যমন্ত্রী তাতে পাত্তা দিতে নারাজ।
তৃণমূলের একাংশ বলেন, মন্দিরের শিলান্যাসের পরই এখানে জোড়াফুলের পক্ষে উঠবে প্রবল হাওয়া। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর এখানে পর্যটন শিল্পে নয়া দিশা খুলে যাবে। দেশ, বিদেশের মানুষ ভিড় করবে। ওরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আবলতাবল বকছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ওই অনুষ্ঠানের পর ভোটের ময়দানে তৃণমূল সুবিধা পাবে বলেই মনে হচ্ছে।