এসআইআর নোটিস, ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী বর্ধমানের মহিলা
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্যে আবারও এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু। শুনানির নোটিস পাওয়ায় শুক্রবার ট্রেনে সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুর-২ পঞ্চায়েতের এক মহিলা। ফুলমালা পাল(৫৭) নামে ওই মহিলার মৃতদেহ রায়নগর থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয়। ওই গ্রামেই তাঁর বাড়ি। পরিবারের লোকজনদের দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকে তিনি আতঙ্কে ছিলেন। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছিলেন না। সব সময় চিন্তা করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বাংলাদেশ চলে যেতে হবে। আশঙ্কার কথা তিনি বহুবার বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছিলেন। এদিন দুপুরের দিকে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে রেল লাইনের পাশেই তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল ওই এলাকায় রাস্তায় মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখায়। যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদার, বিধায়ক নিশিথ মালিক সহ অন্যানরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন। রাতের দিকে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ মৃতার বাড়িতে যান।
যুব তৃণমূলের সভাপতি বলেন, নির্বাচন কমিশন মানুষের মৃত্যু মিছিল চাইছে। যাঁরা এরাজ্যের আদি বাসিন্দা তাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। শুনানির জন্য যেসব নথি চাওয়া হচ্ছে, তা অনেকের কাছে নেই। অনেকেই স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেনি। নিজেদের জমি নেই। বহুজনেরই বাবা, মা কম বয়সে মারা গিয়েছেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ঠিক করে দেওয়া নথি দেখাবেন কীভাবে?
মৃতার পরিবারের লোকজন বলেন, ফুলমালাদেবীর স্বামী ও ছেলের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। তাঁর নাম কোনও কারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যায়। কয়েক দিন আগেই তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে। ৫ জানুয়ারি তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। তারপর থেকেই তিনি আতঙ্কে ভুগতে থাকেন। মৃতার স্বামী সুনীল পাল শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁর এক ছেলে রাজমিস্ত্রির জোগানদার। বাড়িতে আর্থিক অনটন ছিল। তাঁর সঙ্গে শুনানির আতঙ্ক যোগ হয়। মৃতার স্বামী বলেন, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছিল না। সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকত। ওকে আশ্বস্ত করেছিলাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে বাংলাদেশে চলে যেতে হবে এমন মানে নেই। ওর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।
তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করতে গিয়েই মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে। বিজেপি ওদের টার্গেট বেঁধে দিয়েছে। তা পূরণ করার জন্য তারা বৈধ ভোটারদেরও নাম বাদ দিচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। তবে কী কারণে ওই গৃহবধূ আত্মঘাতী হয়েছেন সেটা দেখা দরকার।