গাড়ির মালিক, তা সত্ত্বেও খাদ্য সুরক্ষার রেশন নিচ্ছেন ৩,৯৬৬ জন, তদন্ত শুরু
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাড়িতে রয়েছে দামি কোম্পানির গাড়ি। কর্মস্থল, অফিস কাছারি কিংবা বেড়াতে যাওয়ার জন্য হুস হুস করে সেই গাড়ি ছুটছে। তাঁরা এনএফএসএ-১(ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট) রেশন কার্ড পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু, গাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও প্রতি মাসে মাথা পিছু তাঁদের জন্য পাঁচ কেজি চাল, আটা বরাদ্দ হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম ৩৯৬৬ জন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র থেকে পাওয়া লিস্ট রাজ্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পাঠানো হয়েছে ভেরিফিকেশনের জন্য। প্রাইভেট গাড়ির মালিকদের মধ্যে যারা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা রেশন কার্ডের সুবিধা নিচ্ছেন তাঁদের চিহ্নিত করে আপলোড করার নির্দেশ এসেছে। ভেরিফিকেশনের কাজ করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের খাদ্য দপ্তরের ইন্সপেক্টর ও কর্মীরা।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ ধাড়া বলেন, আমাদের জেলায় মোট ৩৯৬৬ জনের নাম এসেছে। তাঁদের নিজস্ব চারচাকা গাড়ি আছে। যদিও তাঁরা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার উপভোক্তা। এনিয়ে ভেরিফিকেশনের নির্দেশ এসেছে। আমরা চার মহকুমায় সেই লিস্ট পাঠিয়েছি। ব্লক স্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর মোট ৫৬ লক্ষ রেশন গ্রাহক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার অধীনে আছেন ৪৮ লক্ষ গ্রাহক। পরিবারের বার্ষিক আয় পাঁচ লক্ষ টাকা, পরিবারের কোনও সদস্যের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা হলে এবং বাড়িতে চারচাকা গাড়ি থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবার জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনায় আওতায় আসবে না। এটাই কেন্দ্রীয় সরকারের শর্ত। কিন্তু, অনেকে চারচাকা গাড়ি থাকার কথা গোপন করে রেশন তুলছেন বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম ৩৯৬৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খাদ্য দপ্তর সূত্রের খবর, আধার ও রেশন কার্ড সংযুক্ত হওয়ার কারণে ফোর হুইলার থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। কারণ, আধার কার্ডের সঙ্গে প্যান কার্ডের সংযোগ রয়েছে। সেই প্যান কার্ড থেকেই এই তথ্য সরকার পেয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুক, হলদিয়া, কাঁথি এবং এগরা মহকুমার খাদ্য নিয়ামকদের কাছে রেশন কার্ড নম্বর সহ উপভোক্তাদের নাম পাঠানো হয়েছে। মহকুমা খাদ্য নিয়ামক অফিস থেকে প্রত্যেক ব্লকে সেই লিস্ট পৌঁছে গিয়েছে। ইতিমধ্যে তালিকা ধরে ভেরিফিকেশনের কাজও শুরু হয়েছে।
এই কাজ করতে গিয়ে নানা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে খবর। বিশেষ করে খাদ্য দপ্তরের ব্লকের ইন্সপেক্টর অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করা হলে কেউ কেউ ক্ষেপে উঠছেন। চেকিংয়ের আগাম খবর পেয়ে কেউ কেউ গাড়ি লুকিয়ে রাখছেন। এদিকে, ওই কাজ দ্রুত শেষ করে তথ্য আপলোড করার নির্দেশ রয়েছে। তথ্য ভুল দিলে দায় নিতে হবে খাদ্য দপ্তরের অফিসার ও ইন্সপেক্টরদের। যেকারণে তাঁরা চাপে পড়েছেন।