• মে-জুনেই কামারপুকুরে ঠাকুরের দরজায় ট্রেন, আশ্বাস রেলকর্তার
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ভোটের আগেই ভেট মোদি সরকারের! অন্যদিকে, স্বপ্নপূরণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। 

    সবকিছু ঠিকঠাক চললে চলতি বছর মে-জুন মাসের মধ্যে গোঘাট থেকে কামারপুকুর পর্যন্ত পৌঁছবে রেল। শুক্রবার তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর শাখায় রেল প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখতে এসে এমনই আশ্বাস দিলেন পূর্ব রেলের কনস্ট্রাকশন বিভাগের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মনোজ খাঁ। তিনি এদিন লাইন পরিদর্শনের পর কামারপুকুর স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আশা করছি মে-জুন মাসের মধ্যে ঠাকুরের দরজায় রেল পৌঁছে যাবে। গোঘাট থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত লাইনের কাজ পুজোর আগেই শেষ হয়ে যাবে। কামারপুকুর পর্যন্ত মার্চ মাসের মধ্যে কাজ শেষের টার্গেট রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভাবাদিঘির জট কাটতে দেরি হওয়ায় সময়সীমা দুই-তিন মাস পিছিয়ে গিয়েছে।’ 

    এদিন, রেলকর্তা ট্রলিতে চেপে বেশ খানিকটা লাইন পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে রেলের অন্যান্য আধিকারিকরা ছিলেন। পরিদর্শনের সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীদের একাংশ। তাঁরা মনোজবাবুকে ফুলের স্তবক ও মা সারদাদেবীর প্রতিকৃতি উপহার দেন। রেলকর্তা বলেন, ‘পরিদর্শনে এসে দেখলাম ভাবাদিঘি ছাড়া বাকি অংশের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। রেললাইন তৈরি হয়ে গিয়েছে। ভাবাদিঘিতে সেতু নির্মাণে টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। সেতুর চিহ্নিত অংশে পতাকাও লাগানো হয়েছে।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘ভাবাদিঘির কিছু প্রতিনিধি এসে কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ভাবাদিঘির পরে যেন আর লাইন তৈরি না হয়। কিন্তু, সেটা সম্ভব নয়। লাইন একটির পর দু’টি হবে। তিনটিও হতে পারে। যত লাইন তৈরি হবে তত এলাকার বিকাশ হবে। তবে যাতে ভাবাদিঘি সহ পরিবেশের কম ক্ষতি হয়, তার চেষ্টা করা হবে। এই লাইনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই লাইনে এক্সপ্রেস ট্রেন চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। 

    ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, ‘আমরা রেলের পক্ষে। তাই, রেলের কর্তাদের সৌজন্য জানাতে সংবর্ধনা দিয়েছি। একইসঙ্গে বলেছি, যাতে ভাবাদিঘির উপর দ্বিতীয় বা তৃতীয় লাইন তৈরি না হয়। একই সঙ্গে এখানে একটি ফ্ল্যাগ স্টেশনেরও দাবি জানিয়েছি।’ 

    পুরুলিয়ার সঙ্গে হাওড়ার দূরত্ব কমাতে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল চালু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০১ সালে প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন তিনি। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই মতো জমি অধিগ্রহণ সহ আনুসাঙ্গিক কাজ শুরু হয়েছিল। সবকিছু থমকে যায় ভাবাদিঘিতে এসে। কয়েক মাস আগে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ভাবাদিঘিতে কাজ শুরু করেছে রেল। ক’মাস বাদেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইন চলে এসেছে ভোটের ইস্যুতে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল বিজেপির তরজাও। 

    তৃণমূলের গোঘাট বিধানসভার কোঅর্ডিনেটর স্বপন নন্দী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বরের সঙ্গে বিষ্ণুপুরকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করতে এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এটা ছিল স্বপ্ন প্রকল্প। রাজ্যের তৎপরতাতেই ভাবাদিঘির জট কেটেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে গিয়েছে। এখন নির্বাচনের মুখে রেল নিয়ে চমক দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।’ পাল্টা দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তিনি এদিন বলেন, ‘তৃণমূলের জন্যই ভাবাদিঘির কাজে দেরি হল। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর উদ্যোগে কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষও হয়ে যাবে।’  ট্রলিতে চেপে রেল লাইন পরিদর্শনে পূর্ব রেলের কনস্ট্রাকশন বিভাগের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মনোজ খাঁ। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)