• যাত্রীদের নিয়ে আদ্রার ডিআরএমের দ্বারস্থ অগ্নিমিত্রা, কটাক্ষ তৃণমূলের
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের লোকাল ট্রেনগুলি সময় মতো চলাচল করে না। কোভিডের পর থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন বন্ধ রয়েছে। একাধিক জায়গায় আন্ডার পাসের প্রয়োজন রয়েছে।

    শুক্রবার আদ্রা ডিভিশনের রেল সংক্রান্ত একাধিক সমস্যা নিয়ে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল সোচ্চার হন। এদিন তিনি আসানসোল-খড়গপুর লোকাল ট্রেনে চেপে আদ্রা আসেন। ট্রেনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। শোনেন তাঁদের অসুবিধা, সুবিধার কথা। ওই ট্রেনের কয়েকজন যাত্রীকে নিয়ে আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএমের কাছে যান। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ডিআরএম মুকেশ গুপ্তার সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি একটি লিখিত অভিযোগ তুলে দেন।

    আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়ার ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, যাত্রীদের একাধিক সমস্যার কথা আমাদের কানে এসেছে। আমরা চাই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। যাত্রীদের সমস্যাগুলি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। রেল প্রশাসন সর্বদা যাত্রীদের পাশে রয়েছে। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিডের পর থেকে আসানসোল-বোকারো লোকাল ট্রেনটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। আসানসোল-খড়গপুর ট্রেনটিকে এক্সপ্রেস হিসেবে চালানো হচ্ছে। যার ফলে ভাড়া ১০ টাকা সেখানে ৩০ টাকা হয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়া-বর্ধমান লোকাল ট্রেনটি বর্তমানে আসানসোল পর্যন্ত চলছে। যার ফলে পুরুলিয়া জেলার মানুষ বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা বর্ধমান যেতে প্রচুর অসুবিধা পড়ছে। বার্নপুর রেল স্টেশনটি অমৃত ভারত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। অথচ সেখানে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কোনও টয়লেট নেই। ফলে যাত্রীরা অসুবিধায় পড়ছে। এছাড়া লোকাল ট্রেনগুলি সময় মতো চলাচল করছে না। ডিভিশনে একাধিক জায়গায় রেলগেট ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকে। সেগুলিতে আন্ডারপাসের প্রয়োজন রয়েছে। 

    অগ্নিমিত্রা পল বলেন, সাধারণ যাত্রীদের নানা সমস্যা নিয়ে ডিআরএমের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত বার্নপুর এলাকার সমস্যাগুলি তুলে ধরেন অগ্নিমিত্রা পল। সমস্যাগুলি দীর্ঘদিনের। আসানসোল থেকে বার্নপুর পর্যন্ত সিঙ্গল লাইন হওয়ায় ট্রেনগুলি সময় মতো যাতায়াত করে না। ২০১৯-২০ সাল থেকে একের পর এক ট্রেন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ২০২১ সালে বিধায়ক হয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল। বিজেপি মহলে তাঁর প্রশ্নাতীত প্রভাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গেও তাঁর যথেষ্ট সখ্যতা। তারপরেও সাধারণ মানুষের সমস্যা বুঝতে এতটা দেরি করলেন কেন বিধায়ক, সেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বার্নপুর, দামোদর স্টেশনগুলিতে ট্রেনের বিভ্রাট নিয়ে কম আন্দোলন হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে নিত্যযাত্রীরা দিনের পর দিন আন্দোলন করেছেন। রেল রোকোও করে তৃণমূল কংগ্রেস। যার জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করে রেল। আন্দোলনের চাপে বন্ধ থাকা বেশ কিছু ট্রেন চালু হয়েছে। সেই সময়ে ট্রেন চালানোর জোরালো আন্দোলন না করা অগ্নিমিত্রা পলের এই ট্রেন সফর নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

    বার্নপুর স্টেশন এলাকা তৃণমূল কাউন্সিলার অশোক রুদ্র বলেন, এলাকার মানুষকে নিয়ে আমরা রেল রোকো করেছিলাম। রেলের করা মামলার জেরে আমাদের জামিন নিতে হয়েছে। আমরা যে ছ’টি ট্রেন চালাতে বলেছিলাম তার মধ্যে পাঁচটি ট্রেন চালাতে তারা বাধ্য হয়েছে। প্যাসেঞ্জার ট্রেনে এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তারও প্রতিবাদ আমরা জানিয়েছি। সাড়ে চার বছরের বেশি সময় অগ্নিমিত্রা নীরব ছিলেন। এখন ভোটের আগে নাটক করছেন। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)