• শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন গর্ভবতী
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কান্দি: নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, ৮৫ বছরের বেশি বয়সি, সন্তানসম্ভবা ও অসুস্থদের শুনানি করতে হবে তাঁদের বাড়িতে গিয়েই। তা সত্ত্বেও শুক্রবার শুনানি কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হলেন বহু বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, অসুস্থ ও সন্তানসম্ভবা। এদিন লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন সন্তানসম্ভবা এক মহিলা। দৃষ্টিশক্তিহীন এক বৃদ্ধা লাঠি হাতে কষ্ট সহ্য করে শুনানির লাইনে দাঁড়ালেন। এমন ছবি দেখা গেল কান্দি বিডিও অফিসের শুনানি কেন্দ্রে। তবে আরও দুই অসুস্থ বৃদ্ধাকে লাইনে দাঁড়াতে হল না। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামতেই তড়িঘড়ি তাঁদের শুনানি করা হল। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা বেজে ১৩ মিনিট। বিডিও অফিসের ৯ নম্বর কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন। সেই লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন কান্দি ব্লকের বেনিপুর গ্রামের সন্তানসম্ভবা মহিলা সেবিনা বেগম। তখনও তাঁর আগে প্রায় ৩০ জনের লাইন। অর্থাৎ আরও ঘণ্টা দেড়েক তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কিন্তু তার আগেই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। কয়েকজন মহিলা এগিয়ে এসে তাঁর মাথায় জল ঢেলে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ছুটে তৃণমূলের সহযোগিতা কেন্দ্রের কর্মীরা এসে মহিলাকে টোটোয় করে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে যান। ওই মহিলার আত্মীয়া রাকিবা বেগম বলেন, ওই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা। এমনিতেই কয়েকদিন ধরে শরীর খারাপ। এদিনের কষ্ট আর সহ্য করতে পারলেন না।

    অপর একটি লাইনে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় মোতরা গ্রামের উত্তরপাড়ার বৃদ্ধা মেহেরুন বিবি। দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। তাঁকেও তৃণমূল কর্মীরা বাড়ি থেকে টোটোয় চাপিয়ে শুনানিতে এনেছেন বলে জানালেন বৃদ্ধা। তিনি বলেন, টোটোতে করে তৃণমূলের লোকজনের সঙ্গে আমার নাতিও এসেছে। তাই আসতে কোনও কষ্ট হয়নি। 

    এদিকে এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কান্দি পুরসভার অ্যাম্বুলেন্সে করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় মহালন্দি গ্রামের বুনিয়াদি পাড়ার পক্ষাঘাতে আক্রান্ত বৃদ্ধা মাকসুরা বিবিকে। ওই অ্যাম্বুলেন্সেই নিয়ে আসা হয় মহালন্দি গ্রামের আরও এক অসুস্থ বৃদ্ধা আর্শিদা বিবিকে। দুইমাস আগে পড়ে গিয়ে আর্শিদা বিবির পা ভেঙে যায়। এই দুই বৃদ্ধাকে অবশ্য লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামার পরেই তাঁদের শুনানি করে নেওয়া হয়।

    এদিকে এদিন সকাল থেকেই বিডিও অফিস চত্বরে দাঁড়িয়ে সমস্ত কিছুর তদারকি করছিলেন তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার। তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ, কেউ দেখতে পান না। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছেন। এঁদের অভিশাপ বিজেপির উপর পড়বেই। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি যেভাবে মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, তার জবাব আগামী বিধানসভায় পাবে। যদিও বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সহকারী সভাপতি সুখেন বাগদি বলেন, তৃণমূলের নেতা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে। ওঁদের আরও লেখাপড়া করা উচিত।
  • Link to this news (বর্তমান)