ঘুমন্ত অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, চাঞ্চল্য
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: জয়পুরের একটি আশ্রম হস্টেলে ঘুমন্ত অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুজি সাইরেন বাজাতেই অভিযুক্ত চম্পট দেয়। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আশ্রমের তরফে ইতিমধ্যে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে জয়পুর থানা ছাড়াও প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলে আর্জি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ হয়েছে। আশ্রমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর থানা এলাকায় অবস্থিত আশ্রমের হস্টেলে ১০৪জন আবাসিক ছাত্রী থাকে। কয়েকদিন আগে ভোরবেলা এক যুবক হস্টেলে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর কাছে শুয়ে পড়ে। শীতকাল হওয়ায় ছাত্রীর চাদরের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকে। ঘুমের মধ্যে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। ওই সময় সকলেই ঘুমিয়ে থাকায় কেউ দেখতে পায়নি। কিন্তু, আশ্রমের গুরুজি রোজকার মতো সকালে সাইরেন বাজাতেই হস্টেলের কেয়ারটেকার ও ছাত্রীরা জেগে যায়। এরপরেই অভিযুক্ত যুবক দৌড়ে পালিয়ে যায়। ছাত্রীদের চিৎকার শুনতে পেয়ে কেয়ারটেকার ও গুরুজি তাড়া করলেও পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়। ঘটনায় আশ্রমে ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। শীঘ্রই অভিযুক্ত ধরা পড়বে।
ওই আশ্রমের গুরুজি বলেন, গোটা আশ্রমে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। একটি বড় হলঘরে ছাত্রীরা থাকে। সেখানেই এক কোণে একজন মহিলা কেয়ারটেকর থাকেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার দিন ভোরে কেয়ারটেকার হস্টেল থেকে বেরিয়ে বারান্দায় থাকা বাথরুমে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ফের হলের মধ্যে চলে আসেন। হলের দরজা ভিতর থেকে খিল না দিয়েই নিজের বিছানায় শুয়ে পড়েন। তার কিছুক্ষণের মধ্যে এক যুবক দরজা ঠেলে হলের মধ্যে ঢুকে যায়। এক ছাত্রীর চাদরের নীচে শুয়ে পড়ে। প্রতিদিনের মতো সকালে আবাসিকদের ঘুম থেকে তোলার জন্য সাইরেন বাজাই। তখনই ছাত্রীদের চিৎকার শুনতে পাই। কাছে গিয়ে দেখি এক যুবক দৌড়ে পালাচ্ছে। আমি ও কেয়ারটেকার পিছু ধাওয়া করলেও পাঁচিল টপকে পালায়। ঘটনার পর থেকে হস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। এমনকী, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছেও আর্জি জানানো হয়েছে।