মাংস রান্না নিয়ে বিবাদে মেয়েকে মাথা থেঁতলে খুন, পাকড়াও বাবা
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মাংস রান্না নিয়ে বিবাদের জেরে মেয়ের মাথা থেঁতলে খুন করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। খুনের পর অভিযুক্ত বাবা মৃত মেয়ের দেহ বস্তাবন্দি করে জঙ্গলঘেরা পরিত্যক্ত কুয়োয় ফেলে দেয়। প্রমাণ লোপাটের পর মেয়ে ‹নিখোঁজ› হয়েছে বলে বাঁকুড়া সদর থানায় মিসিং ডায়েরি করেছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি। তবে তাতে শেষরক্ষা হয়নি। ওন্দা থানার পুলিশ মৃত যুবতীর দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ‘গুনধর’ বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম ঈশান মাল। ধৃতকে শুক্রবার বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। মৃত যুবতীর নাম ভবানী মাল(২২)। ওই যুবতীর মানসিক রোগ ছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, খুনের মামলা রুজুর পর ওন্দা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃতার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঈশানের বাড়ি বাঁকুড়া সদর থানার শ্যামপুর গ্রামে। ওই গ্রামটি বাঁকুড়া ও ওন্দা থানার সীমানা এলাকায়। ওই যুবতী ঈশানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী›র মেয়ে। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ঈশান ফের বিয়ে করে। তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী›র দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বছর দুয়েক আগে ভবানীর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় মাস তিনেকের মধ্যে তিনি বাপেরবাড়ি ফিরে আসেন। তারপর থেকে শ্যামপুর গ্রামে বাপেরবাড়িতেই তিনি থাকতেন। পাশেই হেলনা শুশুনিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে ওই যুবতী পরিচারিকার কাজ করতেন। সেখানেই দু’বেলা খেতেন। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রতিবেশীরা তাঁকে পাড়ায় দেখতে পাননি। মেয়েকে ‘গুম’ করার দু›সপ্তাহের মাথায় বাঁকুড়া সদর থানায় ঈশান নিখোঁজ ডায়েরি করে।
গত ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারা শ্যামপুর লাগোয়া ওন্দা থানার দিগশুলির জঙ্গলে কাঠ, পাতা সংগ্রহে গিয়ে পচা গন্ধ পান। পরিত্যক্ত ওই কুয়োর মধ্যে একটি বস্তা ভাসতে দেখে ওন্দা থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে কুয়ো থেকে বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করে। দেহ শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে মৃতার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী এক আধিকারিক বলেন, দেহের সঙ্গে বস্তার মধ্যে ইট, পাথরও ভরা হয়েছিল। যাতে বাস্তা ভারী হয়ে কুয়ার জলে ডুবে যায়, তারজন্যই ওই কাজ সে করে বলে জেরায় ঈশান জানিয়েছে। প্রতিবেশী শেফালি মাল বলেন, ঘটনা জানার পর ঈশানের দ্বিতীয় স্ত্রী বাড়িছাড়া। তাদের তিন শিশু সন্তান আমার কাছে রয়েছে। খুনের বিষয়ে আমরা কিছু টের পাইনি। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ভবানী কোথাও চলে গিয়েছে বলে সবাই মনে করেছিলাম।
এদিন বাঁকুড়া আদালতে পেশের সময় ঈশান বলে, মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে আসার পর থেকে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী›র সঙ্গে নানা বিষয়ে ঝগড়া হচ্ছিল। বাড়িতে থাকার জায়গাও অভাব রয়েছে। মেয়ের উপর আমার রাগ ছিল। ঘটনার রাতে মাংস রান্না করা নিয়ে মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়। রাগের চোটে ইট দিয়ে মেয়ের মাথা থেঁতলে দিই। পুলিশের ভয়ে দেহ রাতের অন্ধকারে বস্তায় ভরে ওই কুয়োর মধ্যে ফেলে দিই।