সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বারুইপুরে মেগা জনসভা করলেন ডায়মন্ডহারবারের এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হল বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। জেলার ৩১টি আসনেই জয়ের ৫০ হাজারের মার্জিন বা ব্যবধান বেঁধে দিলেন তিনি।
শুক্রবার সাগর সংঘের মাঠে জনসভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘এটা বিজেপিকে পরাজিত করার নয়, তাদের শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রতিটি আসনে জয়ের ৫০ হাজারের ব্যবধান সুনিশ্চিত করতেই হবে। জোড়াফুলকে শক্তিশালী করতে হবে সর্বত্র। বিজেপিকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক জমি ছাড়া যাবে না। মানুষের পাশে থাকতে হবে আমাদের।’ তিনি আরও বলেন, ‘একুশের ভোটে তৃণমূল ২১৪টি আসনে জিতেছিল। এবার একটি হলেও আমাদের আসন বাড়বে। সেটি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে—ভাঙড় জিততেই হবে। তার জন্য যে এলাকা, বুথ বা পাড়ায় যেতে বলবেন যাব।’ প্রসঙ্গত, এই জেলার একমাত্র ভাঙড় আসনটি আইএসএফ পেয়েছিল এবং জিতেছিলেন নৌশাদ সিদ্দিকি। সেটাকেই টার্গেট করেছেন অভিষেক।
‘যতই কর হামলা জিতবে আবার বাংলা’ কর্মসূচি বারুইপুর থেকেই কেন শুরু হল? তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিষেক, ‘শুভ কাজে গুরুজনদের প্রণাম করে যেতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি। আমার কর্মভূমি দক্ষিণ ২৪ পরগনা। আমার মৃত্যু যেন এই জেলাতেই হয়।’
রাজ্যের শাসক দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলেন, ‘সিপিএম যখন মধ্যগগনে, ২০০৮-এ পরিবর্তনের চাকা ঘুরিয়েছিল এই জেলাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী করতে এই জেলাই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। তাই আমার লড়াই এই জেলা থেকেই শুরু করলাম।’
সঞ্চালক ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক বিভাস সরদার। উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সায়নী ঘোষ, বাপি হালদার ও প্রতিমা মণ্ডল। ছিলেন দুই মন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল ও বঙ্কিম হাজরা এবং জেলার দলীয় বিধায়করা। সভায় মহিলাদের যে সমাগম হয় তা ছিল উল্লেখযোগ্য। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সভা সফল করতে যোগ দিয়েছেন দেড় লক্ষ নরনারী।