• পানিহাটিতে শাসকদলের বিভাজন দূর করতে বৈঠক জেলা নেতৃত্বের
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটিতে শাসকদলের আড়াআড়ি বিভাজন বেআব্রু হচ্ছিল বারবার। বিধায়ক ও তাঁর পালটা গোষ্ঠীর লড়াইয়ে সমস্যায় পড়ছেন দলের নীচুতলার নেতা-কর্মীরা। এমনকি, এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা কুক্ষিগত করে রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই সমস্যা মেটাতে তৎপর শাসক শিবির। ঘর গোছাতে শুক্রবার বিকেলে টিটাগড়ে জেলা পার্টি অফিসে দুই গোষ্ঠীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি দলীয় স্বার্থে দুই গোষ্ঠীকেই একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন। যদিও এনিয়ে প্রকাশ্যে কোনও পক্ষই মন্তব্য করতে চায়নি।

    পানিহাটি পুরসভায় মোট ৩৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। তারমধ্যে ২৯টি ওয়ার্ড নিয়ে পানিহাটি বিধানসভা। বাকি ছ’টি ওয়ার্ড খড়দহ বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। গত দু’দশক ধরে পানিহাটিতে দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে বিধায়ক নির্মল ঘোষের হাতে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও একান্ত অনুগতদের বৃত্তের বাইরে অংশের নেতাদের কোণঠাসা করা, রাজনৈতিকভাবে একঘরে করা, সমূলে বিনাশের অভিযোগ বহুবার দলের অভ্যন্তরে উঠে এসেছে। একাধিক নেতা দলও ছেড়েছেন। কিন্তু গত দু’বছর ধরে পানিহাটিতে নির্মলবাবুর বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। 

    বর্তমানে পানিহাটি (পূর্ব) শহর তৃণমূলের সভাপতি সম্রাট চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বিধায়কের পালটা গোষ্ঠীর সদস্যরা মাথাচাড়া দেওয়ায় দলে আড়াআড়ি বিভাজন তীব্র হয়েছে। এই শিবিরে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, কাউন্সিলার তাপস দে ছাড়াও একাধিক বর্ষীয়ান কাউন্সিলার রয়েছেন। পানিহাটি উৎসবের সেক্রেটারি হিসেবে নাম থাকলেও এক মুহূর্তের জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান সহ বিধায়কের পালটা গোষ্ঠীর নেতারা হাজির হননি। দু’পক্ষের মধ্যে কার্যত সাপে-নেউলে সম্পর্ক। আসন্ন বিধানসভা ভোটে এই সমীকরণ বজায় থাকলে বিপদে পড়তে পারে দল।

    পরিস্থিতি আঁচ করে শুক্রবার দুপুরে পার্টির জেলা অফিসে পানিহাটির দুই গোষ্ঠীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন পার্থ ভৌমিক ও আইপ্যাকের দুই প্রতিনিধি। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর ছেলে তথা পানিহাটি পুরসভার সিআইসি সদস্য ও সদ্য পানিহাটি ও খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর তীর্থঙ্কর ঘোষ ছিলেন। বিরোধী গোষ্ঠীর তিন নেতা সম্রাটবাবু, সোমনাথবাবু ও তাপস দে ছিলেন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে বিরোধী গোষ্ঠীর তরফে ভোটার লিস্টের কাজ, পুরসভার কাজ সহ নানা ক্ষেত্রে বিধায়কের পরিবারতন্ত্র, বাধাদানের প্রসঙ্গ আসে। পালটা যুক্তি দেন বিধায়কও। তবে জেলা সভাপতি ও আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা দলের সকলকে নিয়ে একজোট করে চলার বার্তা দেন বিধায়ককে। এই বৈঠকের পর বাস্তবে ঐক্য মেটে কি না, সেটাই এখন দলের কর্মীদের কাছে লাখ টাকার প্রশ্ন। এদিনের বৈঠকের বিষয়ে নির্মলবাবু ও সম্রাটবাবু বলেন, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলে কোনও গোষ্ঠী কোন্দল নেই। জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক বলেন, বারাসতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার প্রস্তুতি বৈঠক শনিবার পানিহাটিতে হবে। সেইসব কর্মসূচি নিয়ে এদিন কথা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)