মদের আসরে স্ত্রীকে কটূক্তি, প্রতিবাদ করায় ইট দিয়ে থেঁতলে খুন
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মদের আসরে স্ত্রীকে কটূক্তি করায় তাকে ঘিরে দুই যুবকের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি হয়। সেই মারামারির জেরেই মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। মৃতের নাম বিজয় দাস (২৬)। বাড়ি বারাকপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিলপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষবরণের দিনে বিজয় তাঁর বন্ধু সুমন বিশ্বাস সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মদ্যপান করছিলেন। সেই সময় সুমন তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কে কটূক্তি করে বলে অভিযোগ। বিজয় প্রতিবাদ করলে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যায়। ক্রমে তা হাতাহাতির চেহারা নেয়। বাকিরা তাঁদের ছাড়িয়ে দেন। ওই সময় বিজয় মদ খেয়ে কার্যত বেসামাল হয়ে গিয়েছিলেন।
তাঁর মা মমতা দাস শুক্রবার কান্নাভেজা গলায় বলেন, ‘সুমন প্রথমে ওকে মারধর করে। তারপর বিজয় ঘরে এসে শুয়ে পড়ে। তখন দরজা খোলাই ছিল। সেই সময় সুমন ফের ঘরের ভিতরে ঢুকে ইট দিয়ে ছেলের মাথায় মারে। সকালে ঘুম থেকে উঠছে না দেখে ডাকতে যাই। দেখি, গোটা বিছানা রক্তে ভাসছে। ছেলে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’ তিনি চিৎকার করে উঠলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর যায় টিটাগড় থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওইদিন বিজয়ের স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেকারণে বাড়িতে মা ও ছেলে ছিলেন।
বারাকপুর পুলিশ কমিশনারের ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দ্রবদন ঝা ঘটনাস্থল সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। বলেন, বন্ধুদের নিজেদের মধ্যে গোলমাল। তার পরিণতিতেই এই ঘটনা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সুমন বিশ্বাস পলাতক। তবে তার খোঁজ চলছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকার মানুষ ওই বাড়ির সামনে ভিড় করেন। দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, প্রতিবেশীরা মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিছুটা দূরেই সুমন বিশ্বাসের বাড়ি। তবে ওই বাড়ি তালা বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে আসেন স্থানীয় কাউন্সিলার দেবু মজুমদার। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, মদের আসরে বন্ধুদের গোলমালকে ঘিরেই এই ঘটনা। ঘটনার তদন্ত শুরু করছে পুলিশ।