রাহুল চক্রবর্তী, বারুইপুর: এসআইআর চক্রান্তের অভিযোগে এবার তৃণমূলের আন্দোলন পৌঁছে যাবে দিল্লির দরবারে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে দেশের রাজধানীতে হাজির হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। এই সূত্রেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোলা চ্যালেঞ্জ, ‘জ্ঞানেশ কুমার তৈরি থাকুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন।’
গত ৪ নভেম্বর থেকে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেদিনই কলকাতার রাজপথে মিছিল করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে এসআইআর নিয়ে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে মমতা ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি বাংলার মানুষের পাহারাদার। কোনও বৈধ ভোটারের নাম কাটতে দেব না।’ এরপর এসআইআর প্রক্রিয়া যত এগিয়েছে, তৃণমূলের আন্দোলনের ঝাঁঝও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে আন্দোলনকে যে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়া হবে, তাও স্পষ্ট হয়েছিল তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে। শুক্রবার বারুইপুরে বছরের প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আপনি তৈরি থাকুন। তৃণমূল আন্দোলন নিয়ে দিল্লি যাবে। গত ৩১ ডিসেম্বর আমরা দিল্লি গিয়েছিলাম। বাংলার কী ক্ষমতা, সেদিন বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। সেদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিল। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন। জ্ঞানেশ কুমার তৈরি থাকুন, পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। বাংলার মানুষকে যাঁরা বাংলাদেশি বলছে, তার জবাব মিলবে।’ শুক্রবার থেকে অভিষেক ‘আবার জিতবে বাংলা’ শীর্ষক কর্মসূচি শুরু করেছেন। আগামী এক মাস রাজ্যজুড়ে তাঁর কর্মসূচি চলবে। এদিন তারই সূত্রপাত হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর সাগর সংঘ মাঠ থেকে। বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে এসআইআর চক্রান্তের অভিযোগ এনে আন্দোলন আরও তীব্র করার শপথ নেওয়া হয়েছে সভা থেকে। অভিষেক ঘোষণা করেছেন, বাঙালিকে রক্তচক্ষু দেখিয়ে বা আঙুল তুলে কিংবা চমক-ধমক দেখিয়ে পিছু হটানো যাবে না। লড়াই হবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে। এই লড়াইয়ে বাংলার মানুষের উদ্দেশে অভিষেকের আহ্বান, ‘২০১৬ সালে নোটবন্দির সময় এরা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল। ১০ বছর পর এসআইআরের নামে এরা আবার মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। আগামী নির্বাচনে আপনাদের শেষবারের মতো লাইনে দাঁড়াতে হবে। ইভিএমের বোতাম এমনভাবে টিপতে হবে, যাতে যারা বাংলার মানুষকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারাই যেন চিরতরে মুছে যায়।’
আগামী মাস তিনেকের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই প্রেক্ষাপটে নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনেই তৃণমূল জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে দিল। সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বললেন, ‘বিজেপি কোনও বুথেই যেন সুযোগ না পায়, তা গণতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ২০২১ সালে আমরা ২১৪টি আসন জিতেছিলাম। এবার বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের ভোটের শতাংশ এবং আসন সংখ্যা, দুটোই বাড়বে। বিজেপি শুধু বাংলার উন্নয়নের টাকা বন্ধ করেনি। তারা এসআইআর এনে বাংলার গরিব মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। যারা এসআইআর এনেছে, মানুষ ভোট দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করবে।’ ছবি: পিন্টু মণ্ডল