• বাংলাদেশের ভোট বানচাল করতে আসরে রাজাকাররা, পাকিস্তানের উসকানিতে উদ্বেগ ভারত সীমান্তে
    বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • দেবাঞ্জন দাস, কলকাতা: তাদের হয়ে গত দেড় বছর ধরে যারা গলা ফাটিয়েছে, উগ্র ভারত বিরোধিতা আর মৌলবাদ ছড়িয়েছে, বাংলাদেশের সেই জামাত-এ-ইসলামির ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে চিন্তায় পাকিস্তান। গোয়েন্দারা বলছেন, ফেব্রুয়ারির প্রস্তাবিত নির্বাচনে জামাতের ফল যে ঢাকার মসনদ দখল করার মতো হবে না, ইতিমধ্যেই তা নিয়ে ইসলামাবাদে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা শাহ মাহমুদ। বাংলাদেশের ‘স্বঘোষিত বন্ধু’ সেজে গত নভেম্বরের শেষে পাকিস্তানের যে প্রতিনিধি দল (সেনা, আইএসআই এবং সরকারি আমলা) বাংলাদেশ সফর করেছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন শাহ মাহমুদ। তাঁর রিপোর্টই কপালে ভাঁজ ফেলেছে আইএসআই কর্তাদের। 

    তবে হাল ছাড়তে নারাজ ইসলামাবাদ। মুক্তিযুদ্ধ পর্বে ‘রাজাকার’ বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা তথা জামাতের আমির গোলাম আজমের বড় পুত্র আবদুল্লাহিল আমন আজমকে তাদের পক্ষে ‘ব্যাট’ করতে নামিয়েছে আইএসআই। এপারের গোয়েন্দারা জেনেছেন, আজমের বড়পুত্রকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপদেষ্টা পদে বসাতে দৌত্য শুরু করেছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন কর্তা আমন আজমিকে সামনে রেখে একটি সমান্তরাল কমান্ডো বাহিনী তৈরি করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। জামাত বিরোধীদের ‘কড়কে’ দিতে আসরে নামানো হবে এই কমান্ডোদের। এদের দিয়ে ভোট বানচালের প্ল্যান রূপায়ণের ছকও রয়েছে আইএসআইয়ের।

    গত ৫৪ বছর বন্ধ থাকার পর ঢাকা, যশোর, রাজশাহি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সদ্য চালু হওয়া ‘ডেস্ক’কে আইএসআইয়ের নির্দেশ—নির্বাচন বানচাল করতে হিংসার ঘটনা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে আনসারুল্লা বাংলা টিম, হিজবুত তাহির এবং নব জেএমবি’র মতো সংগঠনগুলিকে দেশের অভ্যন্তরে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় চলতি জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্যাপক হাঙ্গামা পাকাতে হবে। জামাত বিরোধী বিশিষ্ট লোকজনকেও ‘সমঝে’ দেওয়ার কথা বলেছে আইএসআই। এই কাজে কীভাবে ‘মদত’ দেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ঘুরে গিয়েছে জয়েশ-ই-মহম্মদের মাজহার সৈয়দ শাহ। গোয়েন্দারা জেনেছেন, জামাতের হয়ে এহেন হাঙ্গামা-হুজ্জুতি পাকাতে আইএসআই প্ল্যান করেছে, বাংলাদেশ সেনার সমান্তরাল একটি কমান্ডো ইউনিট গঠনের। নাম ‘ন্যাশনাল আর্মড রিজার্ভ’ (নার)। নার-এর জন্য কট্টর মৌলবাদে বিশ্বাসী ৮ থেকে ১০ হাজার যুবককে বাছাই করে প্রশিক্ষণ পর্বও শুরু হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, পাকপন্থী আমন আজমির তদারকিতে থাকা এই বাহিনীর কাজ হবে, দেশ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলছে কি না দেখা। এই বাহিনীর মধ্যে ‘তালিবানি’ ছায়া দেখা যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লির।

    গোয়েন্দারা বলছেন, পাকপন্থার প্রতি আনুগত্য রয়েছে, এমন লোকজনকে নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার বনানীর অফিসার্স হাউজিং স্কিমের একটি ফ্ল্যাটে আমন আজমের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন পাক ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ ওয়াসিম। সেখানে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী এনএসআই (বিদেশ সংক্রান্ত) এবং ডিজিএফআইয়ের (অভ্যন্তরীণ বিষয়ক) কর্তারা, আইএসআই’এর ঢাকা ডেস্কের কর্মকর্তা সহ ইউনুস প্রশাসনের কয়েকজন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই চর্চা হয়েছে, নির্বাচনে জামাত জেতার সম্ভাবনা কমে এলে, আলগা হবে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ। ’৭১-এর বদলা নেওয়া যাবে না ভারতের বিরুদ্ধে। তাই জামাত তথা পাকিস্তানের পক্ষে জনমত আরও বাড়াতে হব।
  • Link to this news (বর্তমান)