ফেব্রুয়ারিতেই সবুজসাথীর সাইকেল, উপকৃত হবে বাংলার ১২ লক্ষ পড়ুয়া
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রীতেশ বসু ও অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই ছাত্রছাত্রীদের বই, ব্যাগের পাশাপাশি ইউনিফর্ম, জুতো এবং সাইকেল তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নির্দেশ মেনে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ফেব্রুয়ারি থেকেই পড়ুয়াদের ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের সাইকেল তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। অর্থাৎ, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাস থেকে সাইকেল পেতে শুরু করবে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। এই দফায় রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী সাইকেল পাবে।
ইতিমধ্যে ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল থেকে ছাত্রছাত্রীদের তথ্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরকে পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে তারা যেন চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে ফেলে। এর পাশাপাশি, স্কুলগুলিতেও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনও পড়ুয়ার তথ্যাদি যদি ‘সবুজসাথী’র পোর্টালে না থাকে, তাহলে নতুন করে ডেটা এন্ট্রি করতে হবে প্রধান শিক্ষকদের। একেবারেই রেজিস্ট্রেশন না থাকলে পদ্ধতি মেনে আবেদনও জানানো যাবে। কোনও পড়ুয়ার তথ্যাদি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করার প্রয়োজন থাকলে তাও এর মধ্যে সেরে ফেলতে হবে। সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া আগে সাইকেল পেয়েছে কি না, এই তথ্য জানানো আবশ্যিক। পরের ধাপগুলি আগের মতোই। প্রধান শিক্ষকরা প্রোফাইল চূড়ান্ত করার পর এসআই, ডিআই পর্যায়ে ‘ভ্যালিডেশন’ হবে। তারপর জেলা পর্যায়ের নোডাল আধিকারিকরা তা চূড়ান্ত করবেন। তার ভিত্তিতেই তৈরি হবে মাস্টার রোল। এর পর বিডিওরা একটি ডেলিভারি পয়েন্ট ঠিক করে সেখান থেকে বিলি করবেন সাইকেল। তৃণমূল স্তরে একাধিক ডেলিভারি পয়েন্টও থাকতে পারে।
এক আধিকারিক বলেন, ‘অন্যান্য বছর জুলাই থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত বছর সাইকেল বণ্টন শেষ করতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লেগে গিয়েছিল। এবার জানুয়ারিতেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে পড়ুয়াদের সাইকেল দিতে অসুবিধা হবে না।’ তবে অন্য একটি সমস্যা ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে। তা হল, ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে এই প্রক্রিয়ায় ছেদ পড়তে পারে। তবে চালু প্রকল্প হিসেবে এক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও মনে করছেন অনেকে। শিক্ষকদের একাংশ অবশ্য বলছেন, সদ্য নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়াও শেষ করতে পারা যায়নি এখনও। তাছাড়া, ‘স্টুডেন্টস উইক’ চলছে। তার জন্য বই বিলি সহ নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি রয়েছে। এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে শিক্ষকদের। সদ্য ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে স্কুলগুলি। তার মধ্যেই এত তাড়াতাড়ি এমন গুরুদায়িত্বে কিছুটা হলেও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে শিক্ষকদের মধ্যে। তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সেলের সভাপতি প্রীতম হালদার বলেন, ‘সবুজসাথীর সাইকেল স্কুলে হাজিরা বৃদ্ধিতে কী ভূমিকা নিয়েছে, তা নিয়ে অনেক গবেষণা রয়েছে। পাহাড় থেকে সাগর—সর্বত্র ছাত্রছাত্রীরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে,এ ছবি এখন সবার পরিচিত। সাইকেল যদি শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পাওয়া যায়, তাহলে লাভবান হবে পড়ুয়ারাই।’