কমিশনের ১৩ নথিও যথেষ্ট নয়! বাবা-মায়ের পরিচয় প্রমাণে চরম হয়রান ‘সন্দেহজনক’ এক কোটি ভোটার
বর্তমান | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকা নো-ম্যাপ ভোটারদের পর এবার ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠাতে শুরু করল কমিশন। বৃহস্পতিবারই রাজ্যজুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে ভোটারদের মধ্যে। বাবা-মায়ের পরিচয় প্রমাণে ঠিক কোন নথি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, তা নিয়েই হয়রান প্রায় এক কোটি ভোটার। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে কমিশন নির্ধারিত ১৩ নথি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা বিধানসভার বাসিন্দা সুভাষ দাসের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০২ সালের তালিকায় থাকা বাবার নাম উল্লেখ করে তিনি ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। সুভাষের বাবার নাম হিরা দাস। কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর বাবার নাম ছিল হেলা দাস। সেটাই তিনি ফর্মে লিখেছিলেন। এখন তাঁকে ‘সন্দেহজনক’ ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। সুভাষের দাবি, তাঁর বার্থ সার্টিফিকেটে বাবার নাম হিরা দাস। এখন সেই নথি কি শুনানিতে গ্রহণযোগ্য হবে? কারণ হিরা দাস ও হেলা দাস যে একই ব্যক্তি, তা ওই বার্থ সার্টিফিকেট থেকে প্রমাণ হচ্ছে না। ফলে কমিশনের তালিকায় থাকা ১৩টি নথির মধ্যে বার্থ সার্টিফিকেটের উল্লেখ থাকলেও তা আদৌ কাজে লাগবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় তিনি। একই জেলার সুমিত্রা দাসের অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় বাবার নামে গোলযোগ ছিল। বিএলওর পরামর্শ মতো ওই তালিকায় থাকা নাম উল্লেখ করেই ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন তিনি। তিনিও শুনানির নোটিস পেয়েছেন। সুমিত্রার অভিযোগ, তাঁর কাছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, পাসপোর্ট ও জাতিগত শংসাপত্রের মতো কমিশন নির্ধারিত এমন কোনও নথি নেই, যার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে পারেন ফর্মে উল্লিখিত ব্যক্তিই তাঁর বাবা। অথচ রেশন কার্ড, আধার কার্ড সবেতেই তাঁর বাবার নামের উল্লেখ রয়েছে। এক্ষেত্রে কোন নথি গ্রহণযোগ্য? শুনানির নোটিসে এবিষয়ে কিছুর উল্লেখ নেই।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করে নথি সংগ্রহ শুরু করেছিল কমিশন। জানা যাচ্ছে ৩০ লক্ষ ভোটারের নথি ইতিমধ্যে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত করেছে কমিশন। কিন্তু ফর্মে বাবা, মা, ঠাকুরদা, ঠাকুমার নাম উল্লেখ করে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত হওয়া সুভাষ বা সুমিত্রার মতো প্রায় এক কোটি ভোটার এখন নথি পেশ নিয়ে দুশ্চিন্তায়।